মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
আন্তর্জাতিক
স্বাস্থ্যের অবনতি, ইমরান খানকে নেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪০ এএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতির খবরের পর পাকিস্তানে নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই তারকা ক্রিকেটারের ডান চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টি অবশিষ্ট থাকার তথ্য সুপ্রিম কোর্টে জানানোর পর বিরোধী দলগুলো তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে। আর এর মধ্যেই সরকার ইমরান খানকে হাসপাতালে নেয়া ও মেডিকেল বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। খবর দ্য ডন

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশটির সরকার বিক্ষোভের মুখে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্সমন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানিয়েছেন, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিরোধী দলগুলো যখন পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, তখন  তিনি এ ঘোষণা দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তারিক ফজল চৌধুরী বলেন, ইমরান খানকে তার ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তার স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে হাসপাতালে নেয়া এবং একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তও হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার মানবিকতা ও আইনগত বাধ্যবাধকতাকে অগ্রাধিকার দেয়। আইন অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দিকে প্রয়োজনীয় সুবিধা দেয়া সরকারের দায়িত্ব। স্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পিটিআই যেন ভিত্তিহীন প্রচার বা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা থেকে বিরত থাকে।

তারিক ফজল চৌধুরীর আগে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, ইমরান খানের চলমান চোখের চিকিৎসার অংশ হিসেবে বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরবর্তী পরীক্ষা ও চিকিৎসা করা হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়কে রাজনৈতিক বক্তব্য বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রচারণায় রূপ না দেয়ার আহ্বান জানান তারার।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টে গত বৃহস্পতিবার জানানো হয় যে ইমরান খানের ডান চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টি অবশিষ্ট রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পিটিআই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং দলটি ও তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তান (টিটিএপি)-এর ব্যানারে বিরোধী আইনপ্রণেতারা ইসলামাবাদের পার্লামেন্ট হাউস ও কেপি হাউসের সামনে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। তাদের দাবি, ইমরান খানকে অবিলম্বে হাসপাতালে নেয়া হোক।

অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিটিএপি চেয়ারম্যান মাহমুদ খান আচকজাই। এতে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান, সিনেটর আলী জাফর, আসাদ কায়সার, জুনায়েদ আকবরসহ অন্য নেতারা অংশ নিয়েছেন।

পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক স্পিকার আসাদ কায়সার বলেন, সরকারের ঘোষণাকে তিনি স্বাগত জানালেও ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর এবং মেডিকেল বোর্ডে পারিবারিক চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত না করা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম পার্লামেন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক।

টিটিএপি মুখপাত্র আখুনজাদা ইউসুফজাই বলেন, ইমরান খানকে হাসপাতালে নেয়া নীতিগত দাবি। তবে তাকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে স্থানান্তরের চেষ্টা হলে তা মেনে নেয়া হবে না। পাশাপাশি মেডিকেল বোর্ডে পারিবারিক চিকিৎসক রাখার দাবি জানান তিনি।

অন্য এক বিরোধী নেতা বলেন, সরকারপক্ষের মন্ত্রীদের বক্তব্যে তারা আস্থা রাখতে পারছেন না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তাদের হাতে নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এক্সে দেয়া এক পোস্টে আচকজাই বলেন, ইমরান খানকে তার পরিবার ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চিকিৎসা সুবিধা না দেয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

এদিকে টিটিএপি এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় পিটিআই মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা বলেন, ইমরান খান ও তার ছেলেদের মধ্যে ফোনালাপের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেয়ার বিষয়ে ‘সদিচ্ছা’ রয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। যদি তা-ই হয়ে থাকে, তাহলে বিলম্ব কেন হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close