রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কারওয়ান বাজারের কাঠপট্টির পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবনের আগুন দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেন্টেনেন্স) লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান।
লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, রাত ১০টা ২৮ মিনিটে তারা আগুন লাগার খবর পান। ১০টা ৪৫ মিনিটে তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা প্রথম ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
তিনি বলেন, ডায়মন্ড টিম্বারস নামের একটি স’মিল (কাঠের গোলা) থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। স’মিলে প্রচুর কাঠ থাকায় আগুন দ্রুত পাশে থাকা একটি পাঁচতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটি মূলত বিভিন্ন পণ্যের গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যেখানে প্লাস্টিক পণ্য, প্যাম্পারস এবং কাঠের আসবাবপত্র মজুত ছিল।
আগুনের ভয়াবহতা দেখে পর্যায়ক্রমে তিনটি স্টেশনের মোট ১১টি ইউনিট কাজে যোগ দেয় জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল আগুন যেন কারওয়ান বাজারের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে না পড়ে। ভবনটির স্থাপত্য নকশায় ত্রুটি থাকায় এক সিঁড়ি থেকে অন্য সিঁড়িতে যাতায়াত করা যাচ্ছিল না, যা আমাদের কর্মীদের ভেতরে ঢুকতে বাধাগ্রস্ত করেছে।’
রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গোডাউনের ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থের কারণে ড্যাম্পিং ডাউন (আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ) করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হচ্ছে বলে জানানো হয়।
ভবনটিতে কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম বা পর্যাপ্ত এক্সিট রুট ছিল না বলে জানান এই কর্মকর্তা। পানির সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওয়াসা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়াটার ভাউজার থেকে আমরা পানির সাপোর্ট পেয়েছি। এ ছাড়া আমাদের নিজস্ব বিশেষ পানিবাহী গাড়িও মোতায়েন ছিল, তাই পানির বড় কোনো সংকট হয়নি।’
এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।
কেকে/এসএএস