পূর্বের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকই হয়েছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ইসলামি ছাত্র শিবিরের নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ সেশনের জন্য বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির হাবিপ্রবি শাখার সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন গণিত বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী শেখ রিয়াদ।
জানা যায়, সংগঠনটির সাথী ও সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রেজওয়ানুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শেখ রিয়াদ।
হাবিপ্রবি শাখা ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাথী ও সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। সমাবেশটির সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক দায়িত্বশীল মু. মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী।
২০২৬ সেশনের জন্য শাখা সভাপতি নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সভাপতির স্বাক্ষরিত ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত রেজওয়ানুল হককে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তাকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। পরবর্তীতে সাথী ও সদস্যদের পরামর্শক্রমে নবনির্বাচিত সভাপতি, শেখ রিয়াদকে শাখা সেক্রেটারি হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করেন। পরিশেষে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে সমাবেশের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ৫ পরিবর্তনের কিছুদিন পরেই হাবিপ্রবি ইসলামি ছাত্র শিবিরের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রকাশ্যে আসেন তারা দুই জন। পরবর্তীতে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্যও তারা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত ও মনোনীত হোন। সর্বশেষ এবারও সেই সাবেক নেতারাই শীর্ষ পদের জন্য বিবেচিত হয়েছেন।
নতুন কমিটি গঠন এবং দায়িত্বের বিষয়ে ইসলামি ছাত্র শিবির হাবিপ্রবি শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘এর আগেও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। নতুন করে কোনো অনুভূতি নেই। আমাদের সংগঠনে সকল সদস্যই যোগ্যতাসম্পন্ন। যেহেতু সাথী ও সদস্যদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়, সেই জায়গা থেকে জনশক্তিরা হয়তো আমাকে যোগ্য মনে করে ভোট দিয়েছে। তাই আমি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির সর্বদা শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করে।ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। পূর্বের চেয়ে আমরা আরও বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।’
আপনারা দুইজন তো এর পূর্বেও কমিটিতে ছিলেন তবুও নতুনরা না এসে আপনারা কেন আবারো কমিটিতে আসলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সভাপতি বলেন, ‘আমাদের গত সেটআপ ২০২৫ এর জুলাইয়ে হয়েছিল। সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনশক্তিরা সংবিধানের ৩৪ নম্বর ধারার গুনাবলীগুলো বিবেচনা করে গোপন ব্যালটে ভোট দেন। আমি মনে করি আমাদের সাথী ও সদস্যদের মাঝে আরো যোগ্য জনশক্তি আছে। কিন্তু জনশক্তিরা যেহেতু আমাকে ভোট দিয়েছে, তাই আমি নির্বাচিত হয়েছি। এই ক্ষেত্রে কারও কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। পরবর্তীতে সকলের সাথে পরামর্শ করে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করেছি।’
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনাদের হল ভিত্তিক, অনুষদভিত্তিক কমিটি আছে কী না বা থাকলে দায়িত্বে আছেন কারা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের হলভিত্তিক, অনুষদ ভিত্তিক কমিটি ছিল তবে বর্তমান কমিটি হওয়ার পরে সেগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। আমরা নতুন কমিটি আলোচনার ভিত্তিতে আবারো সেই কমিটিগুলো দিবো। বিগত সময়ে আমাদের হলগুলো এবং অনুষদগুলোর দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা তাদের নিজ নিজ পরিচয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন।’
ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাথে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পর্ক কেমন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা একটি স্বতন্ত্র সংগঠন। উক্ত সংগঠনের সাথে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু আদর্শগত জায়গায় অনেকটা মিল আছে।’
কেকে/এসএএস