মশুরীখোলা পীর বলেছেন, ‘সারা বিশ্বের ব্যবসায়ীদের কাছে রমজান আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভের মাহেন্দ্রক্ষণ। তাই তারা দ্রব্যমূল্য কমিয়ে, মুনাফা কম করে। আর বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা রোজাদারদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। মাহে রমজান যেন ব্যবসায়ীদের জন্য অতি মুনাফা লাভের মাস হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, ‘সরকারও ব্যবসায়ীদের খুশি রাখতে কেবল সতর্ক বার্তা দিয়ে দায় সারেন। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন ব্যবসায়ী নির্ভর।’
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী মশুরীখোলা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা বাংলা ত্রয়োদশ শতাব্দীর মহান সংস্কারক হযরত কেবলা শাহ মুহাম্মদ আহসানুল্লাহ (রহ.)–এর প্রতিষ্ঠিত ১৫৬তম বাৎসরিক ওরশ মোবারকে সভাপতির বক্তব্যে বর্তমান গদ্দিনেসীন পীর সাহেব হাফেজ মাওলানা মুফতি সাইফুজ্জামান (মাদ্দা জিল্লুহুল আলী) এসব কথা বলেন।
মশুরীখোলা পীর বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের দলীয় রাজনীতির বড় অংশীজন। নতুন সরকারের জন্য বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এককভাবে কঠিন। তবুও জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকারের উদ্যোগ অপরিহার্য। সরকার জনগণ থেকেই নির্বাচিত, তাই জনগণকেও সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। আর ব্যবসায়ীদেরও ইনসাফের সঙ্গে হালাল পন্থায় ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে হবে।’
‘হযরত কেবলা নিজেও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি নীতি ও ইনসাফের মানদণ্ডে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অন্যের প্রতি জুলুমের টাকায় দ্বীনি খেদমতের চেয়ে বড় প্রতারণা আর কিছু নেই। প্রত্যেক মসজিদ থেকে এ ধরনের বয়ান সমাজ বদলের দর্পণ হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, “মশুরীখোলার হযরত কেবলা শাহ মুহাম্মদ আহসানুল্লাহ (রহ.) শরিয়তের অনুসরণ ও তরিকতের দীক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আত্মশুদ্ধি অর্জন এবং মানবতার খেদমতের মাধ্যমে মানবিক ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গঠনে আজীবন কাজ করে গেছেন। তার দেখানো পথে দুই সাহেজাদার পর প্রজন্মের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে হযরত শাহ মুহাম্মদ আহসানুজ্জামান (রহ.) নিরলস খেদমত চালিয়ে গেছেন। দীর্ঘ চার প্রজন্মের এ ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমরাও কাজ করে যাব—ইনশাআল্লাহ।”
বর্তমান গদ্দিনেসীন পীর সাহেব কেবলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার জন্য নতুন সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
দারুল উলুম আহসানিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নিয়ামুল ইসলাম ও মশুরীখোলা শাহসাহেব বাড়ী জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—হযরত শাহ আহসানুল্লাহ (রহ.) কমপ্লেক্সের সভাপতি হযরত শাহ মুহাম্মদ মোহসেনুজ্জামান, দারুল উলুম আহসানিয়া কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ড. সৈয়দ শাহ এমরান, চট্টগ্রাম বেতাগি আস্তানা শরীফের পীর সাহেব মাওলানা গোলামুর রহমান আশরাফ শাহ, দারুল উলুম আহসানিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি আবু জাফর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন.
এছাড়াও ছিলেন, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা আবুল বাশার, প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক, শাহ মুহাম্মদ মোজাম্মেলসহ হযরত কেবলার খলিফাগণের দরবারের প্রতিনিধি, কমপ্লেক্সের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং মশুরীখোলা আনজুমানে আহসানিয়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীলরা।
ওরশ মোবারক উপলক্ষে দিনব্যাপী খতমে কুরআন, জিকির-আযকার, কুরআন-হাদিসের আলোকে বিষয়ভিত্তিক বয়ান, মিলাদ ও মুনাজাতের মাধ্যমে ১৫৬তম আয়োজনের সমাপ্তি হয়।
দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন বর্তমান গদ্দিনেসীন পীর সাহেব হাফেজ মাওলানা মুফতি সাইফুজ্জামান (মাদ্দা জিল্লুহুল আলী)।
কেকে/এলএ