রাজধানীর মোহাম্মদপুর বসিলা রোডে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় দুই যুবক গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতরা হলেন মামুন ও রাসেল।
এদিকে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে আদাবর থানা ঘেরাও করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বসিলা রোডের ফুটপাতে দুজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। অন্যদিকে রাতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আদাবর থানা ঘেরাও করে সেখানকার স্থানীয় এমব্রয়ডারি ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগীরা জানান, কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মামুনের হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার হাতে অন্তত ৮টি সেলাই দিতে হয়েছে।
অন্যদিকে রাসেলের হাতেও বেশ কয়েকটি সেলাই লেগেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার হাতের কনুইয়ের নিচে গভীর ক্ষত হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বসিলা-ময়ূরভিলা সংলগ্ন একটি পাবলিক টয়লেটের পাশে একটি ক্লাবঘর রয়েছে। কয়েকদিন আগে ওই ক্লাবঘরের দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একটি গ্রুপ ক্লাবঘরটি দখল নিতে গেলে অপর গ্রুপ বাধা দেয়। এর জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা শ্রমিক দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এলাকায় কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় একটি গ্রুপ তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানা জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি মাসের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মোহাম্মদপুর এলাকায় এটিই প্রথম বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা।
এদিকে আদাবর এলাকায় গভীর রাতে থানা ঘেরাও করেছে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
তারা জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনের পরপরই একটি গ্রুপের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। এসব বিষয়ে অভিযোগ এনে আদাবর থানা ঘেরাও করে সেখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদাবর এলাকায় এমব্রয়ডারি ব্যবসায়ী মুস্তাফিজুর রহমানের কারখানায় চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেয়ে কারখানায় ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়াও মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় বেড়েছে চুরি-ছিনতাই।
থানা ঘেরাও করতে এসে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, কারখানা থেকে বেতন নিয়ে শ্রমিকরা ঠিকভাবে বাসায় যেতে পারছে না; পথে ছিনতাই হচ্ছে।
এদিকে, আদাবরে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে গভীর রাতে থানা ঘেরাও করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় একটি চক্রের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা আদাবর থানা ঘেরাও করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদাবর এলাকায় এমব্রয়ডারি ব্যবসায়ী মুস্তাফিজুর রহমানের কারখানায় সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা কারখানায় ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেছেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কারখানার শ্রমিকরা বেতন নিয়ে বাসায় ফেরার সময় অনেকেই পথে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
এই অবস্থায় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
এছাড়াও ঢাকা উদ্যান এলাকায় গভীর রাতে একটি রিক্সার গ্যারেজে হামলা চালিয়েছে কিশোর গ্যাং। সব মিলিয়ে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় টালমাটাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কেকে/এলএ