রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় মো. ইব্রাহিম নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার ময়ূর ভিলা সংলগ্ন নূর মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ইব্রাহিম একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় হামলাকারীদের একজনের পরনে বোরকা ছিল এবং আরেকজনের মুখে মাস্ক পরা ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম জুলাই আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত একটি ছাত্র হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়াও ওই এলাকায় গতকালও দুজনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা জানান, মোহাম্মদপুর এলাকায় হঠাৎ করেই খুনখারাবির ঘটনা বেড়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান না থাকলে এলাকাটি আবারও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ওসি (অপারেশন) মফিজ উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, “একজনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত করে ভুক্তভোগীকে সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা দেওয়া হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছে।”
ভুক্তভোগী ইব্রাহিমের মামা মো. রুবেল মিয়া খোলা কাগজকে বলেন, “আমাদের বাসা ময়ূর ভিলার ঢালে। আমার ভাগিনা ছাত্র সমন্বয়ক এবং এনসিপির রাজনীতি করে। তাকে কেন এভাবে কুপিয়েছে আমরা জানি না। বর্তমানে সে জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রয়েছে।”
কেকে/এজে