ঢাকার নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে সেবার মানোন্নয়ন এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করছেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম। এর অংশ হিসেবে শনিবার (১৪ মার্চ) তিনি ঢাকা ওয়াসার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন কর্মসূচির শুরুতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মডস (মডিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট মিটারিং এরিয়া সার্ভিস) জোন-১ ও জোন-৭ এবং রেভিনিউ জোন-১ ও জোন-৭ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সেবাদান কার্যক্রম, গ্রাহকসেবা, রাজস্ব আদায় ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
মাঠপর্যায়ে পানির সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়েও তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পরে তিনি রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পানি উৎপাদন কেন্দ্র সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-১ ও ফেজ-২ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি পানি শোধনের বিভিন্ন ধাপ, উৎপাদন সক্ষমতা এবং নগরজুড়ে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি শোধনাগারের বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য নেন।
এ সময় তিনি আধুনিক স্কাডা প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম তদারকির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। এ ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করেছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) মো. মিজানুল হক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ) (অতিরিক্ত দায়িত্ব), প্রধান প্রকৌশলী শওকত মাহমুদসহ সংস্থাটির অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘রাজধানীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে নিরাপদ ও সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা ঢাকা ওয়াসার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।’
এ দায়িত্ব পালনে সংস্থাটির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘মেধা, সততা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেবার মান আরও উন্নত করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
গ্রাহকসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।
পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
কেকে/এমএ