গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের আবদুল্লাহপুর ইন্টারসেকশন পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
রোববার (১৫ মার্চ) পরিদর্শনকালে আবদুর রউফ এ অংশের অস্থায়ী মেরামত কাজের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থায়ী অর্থাৎ রিজিড পেভমেন্ট কাজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে দায়িত্বরত প্রকৌশলী ও প্রকল্প কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।
একটি সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে সে অনুযায়ী রিজিড পেভমেন্ট কাজটি যথাসময়ে সম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।
এ সময় আবদুর রউফ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য সদয় নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এই এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।’
‘বিআরটি প্রকল্প ঢাকা ও গাজীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত একটি প্রকল্প। আবদুল্লাহপুর অংশটি এই প্রকল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগস্থল। জনদুর্ভোগ কমিয়ে রিজিড পেভমেন্ট কাজটি গুণমান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর।’
সেতু সচিব আবদুল্লাহপুর ইন্টারসেকশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি প্রকল্পের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে এই অংশের রিজিড পেভমেন্টের নির্মাণকাজের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে কাজ চলাকালীন আবদুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়ার দিকে যানবাহন চলাচলে যানজট নিরসন এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ সুগম রাখার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আবদুর রউফ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন এবং বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের আগে এবং যানজট নিরসনে নির্মাণ এলাকায় যথাযথভাবে পুলিশের সাথে সমন্বয় করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শন শেষে আবদুর রউফ বলেন, ‘বিআরটি প্রকল্পের আবদুল্লাহপুর অংশটি এই করিডোরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জংশন। আসন্ন ইদে জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘবে আমরা দিনরাত অস্থায়ী মেরামত কার্যক্রম করে যাচ্ছি। ইদে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করার জন্য এখন প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম করছে। ঈদের পরে অ্যাডগ্রেডের এ অংশের পূর্ণ সংস্কার কাজ পুরোদমে চালু হবে।’
প্রসঙ্গত, বিআরটির এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর উত্তীর্ণ হওয়ায় এবং প্রস্তাবিত আরডিপিপি একনেক কর্তৃক অনুমোদিত না হওয়ায় এবং ঠিকাদার না থাকায় এ ইন্টারসেকশনের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। জনদুর্ভোগ লাঘবের স্বার্থে এ প্রকল্পের অ্যাডগ্রেডের আব্দুল্লাহপুর ইন্টারসেকশন ও টঙ্গী ইউ-টার্ন অংশের রিজিড পেভমেন্ট কাজটি প্রকল্প থেকে পৃথক করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বাজেটে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নির্বাচিত ঠিকাদারের সাথে গত ১৯ জানুয়ারি চুক্তি সই ও গত ১ মার্চ কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে গত ৫ মার্চ হতে এ অংশের অস্থায়ী মেরামত কাজ জরুরি ভিত্তিতে শুরু হয়েছে। ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে ঠিকাদার কর্তৃক এ অংশের অস্থায়ী মেরামত কাজ করা হয়েছ। এর ফলে, জনভোগান্তি অনেকাংশে কমবে।
কেকে/এমএ