রাজধানী ঢাকায় আবারও আলোচনায় এসেছে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ইস্যু। সেনাবাহিনীর আরেক সাবেক তিন তারকা জেনারেলকে গ্রেপ্তারের মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে এবার আটক করা হয়েছে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকে।
বুধবার (২৫ মার্চ) গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে, একই সপ্তাহে সেনাবাহিনীর আরেক সাবেক তিন তারকা জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী-কে গ্রেপ্তার করে ডিবি। সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় তার বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরদিন তাকে মানবপাচারের একটি মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই শেখ মামুন খালেদের গ্রেপ্তার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে তার ভূমিকা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ‘এক-এগারো’ সময়কালে ডিজিএফআইয়ের কার্যক্রমে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার নাম উঠে আসে।
সামরিক ক্যারিয়ারে সিগন্যালস কোরের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শেখ মামুন ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ডিজিএফআইতে পরিচালক (এফএসআইবি) হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০০৮ সালের জুনে তিনি পরিচালক (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো-সিআইবি) হিসেবে দায়িত্ব পান।
পরবর্তীতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ সালে তিনি পুনরায় ডিজিএফআইতে ফিরে এসে মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে এই পদে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবর। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে তার স্থলাভিষিক্ত হন মেজর জেনারেল আকবর হোসেন।
সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে শেখ মামুন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি)-এর উপাচার্যের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া অবসরের আগে তিন তারকা জেনারেল হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)-এর দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি কুমিল্লায় কর্নেল পদে কর্মরত ছিলেন। সেই সময়কার রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত ঘটনাপ্রবাহেও তার নাম আলোচনায় আসে।
এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়েও তিনি আলোচনায় ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তার ও তার স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তখন তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধানের তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে, এখনো মামলা দায়ের হয়নি।
দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকলেও দীর্ঘ সময় তিনি রাজধানীর পল্লবীর নিজ বাসায় নির্বিঘ্নে অবস্থান করছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এক-এগারো এবং পরবর্তী সময়ের বহু আলোচিত গুম, নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা নতুন করে সামনে আসতে পারে।
কেকে/এসএ