নীলফামারীর জলঢাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কলা চাষ। অন্যান্য ফসলের তুলনায় পরিশ্রম ও উৎপাদন খরচ কম, অথচ বাজারে দাম চড়া। এই দুই কারণেই ধান, পাট বা ভুট্টার বদলে কলা চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষ করে চরাঞ্চলের অনাবাদী জমিগুলোতে এখন শোভা পাচ্ছে সারি সারি কলার বাগান। কলা বিক্রি করে অনেক কৃষকই এখন তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন।
উপজেলার কৈমারী, গোলমুন্ডা, মীরগঞ্জ, খুটামারা ও কাঠালী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ মালভোগ, চিনি চম্পা, মেহের, সাগর ও রঙ্গিনসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের কলার চাষ হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কম হওয়ায় এবং প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করা সম্ভব বলে এটি বেশ লাভজনক।
খুটামারা ইউনিয়নের ক্যানেলের পাড় গ্রামের কৃষক হাবিব (৪০) দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কলা চাষ করছেন। তিনি জানান, আগে যেসব জমিতে পটল বা আলু আবাদ করতেন, সেখানে শ্রম ও খরচ দুটোই বেশি ছিল। কিন্তু কলা চাষে একবার চারা রোপণ করলে ৪-৫ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
তার দেওয়া তথ্যমতে বিঘা প্রতি ৩০০-৪০০টি চারা লাগানো যায় (চৈত্র-বৈশাখ মাসে উপযুক্ত সময়)। প্রথম বছর ফলন পেতে ১০-১২ মাস সময় লাগলেও দ্বিতীয় বছর থেকে মাত্র ৮ মাসেই কলা বাজারজাত করা যায়। প্রতি বিঘাতে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, অথচ বিক্রি হয় ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
একইভাবে কাঠালী ইউনিয়নের কৃষক সাইদুল (৫২) জানান, মাত্র ১৭ শতক জমিতে কলা চাষ করে গত রমজানে তিনি ৫৫ হাজার টাকার কলা বিক্রি করেছেন।
জলঢাকার কলা এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কৈমারী ইউনিয়নের পাইকারি ব্যবসায়ী ফারুক জানান, প্রতি হাটে প্রায় ১০-২০ ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। প্রতি ট্রাকে প্রায় দুই লাখ টাকার কলা থাকে। অর্থাৎ প্রতি হাটে এই উপজেলা থেকে প্রায় ২০-৪০ লক্ষ টাকার কলা বেচাকেনা হচ্ছে। তবে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় লভ্যাংশ কিছুটা কমেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
চাষীদের মতে, মালভোগ কলার বাজারে চাহিদা ও দাম সবচেয়ে বেশি থাকলেও এই জাতের গাছে রোগের প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেশি। অন্যদিকে চিনি চম্পা কলার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক এই জাতের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘কলা একটি বর্ষজীবী উদ্ভিদ। খরচ কম এবং ঝুঁকি ও রোগবালাই কম হওয়ায় এখানকার কৃষকদের এটি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের জমিগুলোতে কলা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা ও নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।’
এককালীন বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদী মুনাফা পাওয়ার কারণে জলঢাকার কৃষকদের কাছে কলা এখন ‘সবুজ সোনা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
কেকে/ এমএস