ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ শুরু হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নগর ভবন অডিটোরিয়ামে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ এমানুয়েল আব্রিউক্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ রাজেশ নারোয়াল।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আয়োজিত এই জরুরি ক্যাম্পেইনের আওতায় মোট ৪ লক্ষ ২ হাজার ৪৫৬ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ডিএসসিসি এলাকা জুড়ে মোট ৫৪০টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯০টি স্থায়ী ও ৪৫০টি অস্থায়ী কেন্দ্র হিসেবে সেবা দেবে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে। ১২ এপ্রিল হতে ১১ মে পর্যন্ত মাসব্যাপী এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
অনুষ্ঠানে মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গত ৫ তারিখ থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় কর্মসূচি শুরু হলেও আজ থেকে ঢাকা দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি কর্পোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হলো।’
তিনি সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মহাখালী সংক্রামক রোগ হাসপাতালে দ্রুত আইসিইউ ইউনিট চালু করার কথা উল্লেখ করেন এবং এ কাজে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান সাখাওয়াত হোসেন।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া উদ্বেগজনক। বর্তমান সরকার এই কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। গণমাধ্যমকে অনুরোধ করবো তারা যেন সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেন, বিশেষ করে শ্রমজীবী অভিভাবকদের কাছে টিকার গুরুত্ব পৌঁছে দেন।’
‘তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি নিরাপদ ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কাজ করছেন; যেখানে প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত হবে।’
আবদুস সালামের বলেন, ‘বিগত সরকারের অসাবধানতার কারণেই আজ এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে আমরা প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। মাঠ পর্যায়ে অলিগলি পর্যন্ত গিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসসহ ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ এলাকার নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নগর ভবনে উদ্বোধন শেষে প্রশাসক ও প্রতিমন্ত্রী খিলগাঁওয়ে অবস্থিত নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কেকে/এমএ