অতীতের সব রেকর্ড ব্রেক করে আলোচনায় এসেছেন বর্তমান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। রিয়াল চুরির শিকার হওয়া হজযাত্রী দম্পতিকে নিজের পকেট থেকে ২ হাজার রিয়াল উপহার দিয়ে অন্য নজির সৃষ্টি করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী দম্পতির নাম ঈমান আলী ও শাহানা বেগম। ঘটনাটি জানার পর দেশজুড়ে চলছে এই নিয়ে নানা আলোচনা।
জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল সকাল পৌনে ৮টার দিকে হজ ক্যাম্পে এহরাম পরিধানের সময় চুরি হয়ে যায় দম্পতির ২২ হাজার সৌদি রিয়াল। এ নিয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে দ্রুত ঘটনাটি জানানো হয় ধর্ম মন্ত্রণালয়কে। ঘটনাটি শুনে আবেগ আপ্লুত মোফাজ্জল হোসেন উপস্থিত নিজের পকেট থেকে দুই হাজার সৌদি রিয়াল কিনে উপহার দেন দম্পতিকে। পরে পূর্বনির্ধারিত উল্লেখিত শিডিউলের ফ্লাইটে হজের উদ্দেশ্যে রওনা করেন দম্পতি।
সৌদি পৌছালে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেই দম্পতিকে আরো এক হাজার রিয়াল উপহার দেওয়া হয়। চুরির ঘটনাটি মুহূর্তে ফেসবুকে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
অন্যদিকে আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দ্রুত মাঠে নামেন পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর চৌকস টিম। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিভিন্ন বাহিনীর ত্রিমুখী অভিযানে গ্রেপ্তার হয় চোর চক্রের দুই সদস্য। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় সাড়ে ১৭ হাজার সৌদি রিয়াল ও তিন হাজার রিয়াল বিক্রি করা টাকা থেকে নগদ ৯০ হাজার বাংলাদেশি টাকা। তবে ঘটনার মূল আসামি আব্দুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এ বিষয়ে শুক্রবার (১ মে) বিকাল তিনটায় উত্তরা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আশকনা হজ ক্যাম্পের পরিচালক মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বলেন, ‘ওই দুই হাজার রিয়াল আমাদের ধর্মমন্ত্রী নিজ পকেট থেকে দিয়েছেন। সৌদি আরবে পৌঁছার পর সেই দম্পতিকে ধর্মমন্ত্রণালয় থেকে আরও এক হাজার রিয়াল উপহার দেওয়া হয়।’
এদিকে, হজ ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও ধর্ম মন্ত্রীর এমন উদার আচরণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন হাজীরা।
রংপুর থেকে আসা আব্দুল আউয়াল নামে একজন মুসল্লী বলেন, ‘মন্ত্রীদের নিতে শুনেছি, কখনো দিতে শুনিনি। আমার ৫০ বছর বয়সে এবারই প্রথম শুনলাম, যে মন্ত্রী নিজের পকেট থেকে হজ যাত্রীদের সহায়তা করেছেন।’
এ সময় ধর্মমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকটা সেক্টরের মন্ত্রীরা এ রকম হওয়া উচিত।’
কেকে/এমএ