রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালনকালে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও এক সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) ক্লোজ (সংযুক্ত) করা হয়েছে। প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে তাদের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদরদপ্তরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ডিএমপির সদরদপ্তরের উপ-কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) আমীর খসরু স্বাক্ষরিত আদেশে এ বদলি কার্যকর করা হয়।
বদলিকৃত কর্মকর্তারা হলেন মোহাম্মদপুর থানার সিভিল টিমের ইনচার্জ এসআই সাধন মন্ডল, এসআই রেজাউল করিম রেজা এবং এএসআই সোহেল রানা।
গত দুই-তিন মাসে মোহাম্মদপুর থানার একাধিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধী চক্র, মাদক ব্যবসায়ী ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে ক্লোজ করা হয়েছে এবং একজনকে অন্য থানায় বদলি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় অপরাধ প্রবণতার পাশাপাশি পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে।
ক্লোজ হওয়া তিন সদস্য ছাড়াও আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য বিতর্কে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে একই থানার এক এসআইয়ের সঙ্গে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর কথোপকথনের কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ওই এসআইকে অন্য থানায় বদলি করা হয়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ জনগণের সেবক। তারা কোনো অপ্রীতিকর ও অপরাধে যুক্ত হলে তাদের তাত্ক্ষণিক ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।
এছাড়া, মোহাম্মদপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইনচার্জ) আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে, তিনি বড় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেন।
জানা গেছে, গত ১ মার্চ রাতে হুমায়ুন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেনেভা ক্যাম্পের সি ব্লকের বাসিন্দা মো. মিঠুন নামর যুবককে আটক করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তার কাছ থেকে ১৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হলেও মামলায় ২০ পিস দেখানো হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, তাকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা আদায় করা হয়। পরে থানায় নিয়ে কম পরিমাণ ইয়াবা দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেওয়া হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পরিদর্শক আতিকুল ইসলামকেও মোহাম্মদপুর ফাঁড়ি থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
সব মিলিয়ে, এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন মুঠোফোনে খোলা কাগজকে বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা থানা থেকে পুলিশ লাইনে যাবে, এটি একটি চাকরির অংশ।’
একজন পুলিশ সদস্যকে মাদক ব্যবসায়ীর কাজ থেকে টাকা লেনদেনের কারণে লাইনে হস্তান্তরের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই বিষয়ে আমার জানা নেই।’
মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা এখান থেকে ওখানে যাবে, এটা একটি চাকরির অংশ।
কেকে/এমএ