আজ ৫ মে। দেশের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার ইতিহাসে আলোচিত ও বিতর্কিত একটি দিন—শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড দিবস। ২০১৩ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে শাপলা চত্বর অভিযান ২০১৩-কে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা এখনো জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
সেদিন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা মহাসমাবেশে আলেম-ওলামা ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ১৩ দফা দাবিতে সমবেত হন। দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে সমাবেশটি ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষ থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, আবার সরকারপক্ষ একে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছিল।
গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ঢাকায় অন্তত ৩২ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার ৬১ জন নিহত হওয়ার দাবি প্রকাশ করেছিল। প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়নি।
এদিকে দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে বিকেল সাড়ে ৩টায় মতিঝিল শাপলা চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।
ঘটনার বিচার দাবিও নতুন করে সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা এক অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হতে পারে।
ঘটনার এক যুগ পার হলেও শাপলা চত্বরের সেই রাতের স্মৃতি, বিতর্ক ও বিচারপ্রক্রিয়া এখনো বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে রয়েছে।
কেকে/ এমএস