বৃহস্পতিবার ঈদের দিন ৭৩ কারাগারে তিন বেলা উন্নত খাবার পাবেন ৮১ হাজারের বেশি বন্দি। এদিন হসপিটালাইজড প্রিজনার্স সিকিউরিটি ইউনিটে থাকা বন্দিরাও তিন বেলা উন্নত খাবার পাবেন। প্রায় ১২ হাজার স্টাফ দুপুরে খাবেন উন্নত খাবার। কারাগারগুলোয় বর্ণাঢ্য ঈদ আয়োজন সফল করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। প্রস্তুত করা হচ্ছে ঈদ জামাতের জায়গা।
আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এনডিসি পিএসসির কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছেন কর্মকর্তারা। একই অবস্থা চালু না হওয়া তিন কারাগারেও। সূত্রমতে, বন্দিদের ঈদ বর্ণাঢ্য করে তুলতে কেন্দ্রীয় কারাগারসহ কয়েকটি জেলা কারাগারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজন রাখা হয়েছে। আটক পেশাদার এবং অপেশাদার শিল্পীরা পছন্দের গান পরিবেশন করবেন। কোনো কোনো কারাগারে বাইরে থেকে নেওয়া হবে মিউজিশিয়ান।
জানা যায়, ঈদের দিন সকালে সব শ্রেণির বন্দিদের পোলাও চালের পায়েস অথবা সেমাই ও মুড়ি পরিবেশন করা হবে। দুপুরে থাকবে পোলাও, মুরগির রোস্ট ও গরুর মাংস। ভিন্ন ধর্ম ও বিদেশি বন্দিদের জন্য খাসির মাংসের ব্যবস্থা থাকবে। সঙ্গে দেওয়া হবে সালাদ, মিষ্টি, কোমল পানীয় ও পান। বন্দিদের রাতের খাবারে থাকবে চিকন চালের সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা।
সূত্রমতে, ঈদের দিন দুপুরে স্টাফদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে উন্নতমানের খাবার। পরিবেশন করা হবে পোলাও, সোনালী অথবা কক মুরগির রোস্ট, গরু অথবা খাসির মাংস, সালাদ ও কোমল পানীয়। খরচ হবে কারা অধিদপ্তরের স্টাফ ওয়েলফেয়ার ফান্ড ও কারাগারের স্টাফ কল্যাণ ফান্ড থেকে। সূত্রমতে, এদিন কারাগারে ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তারাও বন্দি ও স্টাফদের সঙ্গে খাবার খাবেন। কোনো কোনো কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে আপ্যায়নের ব্যবস্থা।
সোমবার রাতের হিসাব অনুযায়ী, ৭৩টি চালু কারাগারে ৮১ হাজার ৫২৪ বন্দি রয়েছেন। অন্যদিকে কারা অধিদপ্তর ও বিভিন্ন ডিআইজি প্রিজন্স অফিস ছাড়া ৭৬ কারাগারে ১১ হাজার ৭৩৭ স্টাফ রয়েছেন। সোমবার পর্যন্ত বন্দি মুক্তি (জামিন) দেওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন কারা কর্মকর্তারা। ঈদ আয়োজন সফল করতে কারাগারের বিভিন্ন এলাকা পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে। বুধবারের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে বলে বিভিন্ন কারাগারের কর্মকর্তারা সোমবার দৈনিক খোলা কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রমতে, বন্দিদের মনোবল বাড়িয়ে প্রফুল্ল রাখতে অনুষ্ঠানস্থল ছাড়াও কারাগারের বিভিন্ন ভবন ও ওয়ার্ড এলাকা সাজসজ্জা করা হবে। আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন সোমবার রাতে দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, বিশেষ দিনে বন্দিদের প্রফুল্ল রাখতে দেশের সবগুলো কারাগারে বর্ণাঢ্য ঈদ আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অপরদিকে বিভিন্ন কারাগারে আটক বন্দি ও স্বজনরা সাক্ষাতের বিষয়ে নতুন নিয়ম চালু করার জন্য আইজি প্রিজন্সের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। গত দু’দিন দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া অর্ধশত ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধিদের কথা হয়। এ সময় আদালতপাড়ায় কথা হয় অর্ধশত বন্দির সঙ্গে। সপ্তাহে একদিন সাক্ষাতের নিয়ম চালু করার জোর দাবি জানিয়েছেন বন্দি ও স্বজনরা। জেল কোড অনুযায়ী ১৫ দিন পর পর সাক্ষাতে বন্দিদের মানসিক চাপ বাড়ে। কারাগারে বন্দি থেকে সপ্তাহে অন্তত একদিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করতে পারলে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ব্যাঘাত ঘটে পরিবারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং আদালতের কাজে। বন্দি ও স্বজনদের দাবি, সপ্তাহে একদিন সাক্ষাৎ চালু করলে তারা প্রফুল্ল থাকবেন। কারাগারের ভেতরে কমে যাবে নানা অপরাধসহ আত্মহত্যার প্রবণতা।
জানা যায়, গত এক বছর নয় মাসে নেওয়া কারা অধিদপ্তরের অধিকাংশ সিদ্ধান্তই ইতিবাচক। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। মিটিয়ে ফেলা হয়েছে দীর্ঘ দেড় যুগের নানা জঞ্জাল। সব কিছুই সম্ভব হয়েছে আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনের কর্মদক্ষতা, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা ও কঠোরতার জন্য। গতি ফিরিয়ে এনে তিনি কারাগারগুলো ঢেলে সাজিয়েছেন। কমে গেছে নানা অপরাধ। সুফল ভোগ করছেন বন্দি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। সূত্রমতে, কারাগারে ঘুষ লেনদেন, যে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধে আইজি প্রিজন্স কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। অধস্তনদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— অপরাধ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে কেউ ছাড় পাবেন না।
কেকে/এলএ