সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
২ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: ছয় মাস পূর্তিতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা      কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটি, আটকা ১২৭ যাত্রী      বংশালে হেলমেটের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সাত ইউনিট      ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫      ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ      ফের মেসির পেনাল্টি মিস, হারল মায়ামি      সব দিক দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে বাংলাদেশ ভালো খেলেছে : কামিন্স      
খোলাকাগজ স্পেশাল
দীর্ঘ লড়াইয়ের পথে দেশ
রবিউল ইসলাম
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

তীব্র গ্যাস সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট আরও প্রকট। গ্রামে দিনে ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। পাশাপাশি গ্যাসের চাপ না থাকায় থমকে গেছে কল-কারখানার চাকা। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন কার্যক্রম। আতঙ্ক ভর করেছে হাজার হাজার শ্রমিকদের মধ্যে। সড়কে সিএনজিচালিত গাড়ি কমে যাওয়ায় ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বন্ধ থাকছে বেশিরভাগই। 

যেগুলো খোলা সেগুলোতেও লম্বা লাইন দিয়েও মিলছে না গ্যাস। এমন অবস্থায় সরকার বলছে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে। এর মধ্যেই ধীরে ধীরে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল এমনটাই বলেছেন। গত শনিবার বাণিজ্যমন্ত্রীও এমন কথা বলেছেন। এখন অবস্থা যদি ওই পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও বহুমুখী চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সরকার যদি পদ্ধতিগত পরিবর্তনটা করে ফেলতে পারে, তাহলে দেশে এমন সংকট কখনো এলে তা শক্তভাবে মোকাবিলা করা সহজ হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে চলমান জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে জ্বালানি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কূপ খনন করা হলে জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়বে, তবে এর জন্য দুই বছর সময় দরকার। অর্থমন্ত্রী বলেন, চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সর্বনিম্ন দুই বছর সময় লাগবে। আমরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এ সমস্যা নিয়ে লড়াই করছি। এর জন্যও সর্বনিম্ন দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে। আমাদের হাতে তো কোনো জাদু নেই যে, আমরা হঠাৎ করে দ্রুত গ্যাস ফিরিয়ে আনব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থায়িভাবে এ দীর্ঘ সংকট কাটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কয়লা, গ্যাস ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ এই বহুমুখী জ্বালানি সংমিশ্রণের ভিত্তিতেই এগোতে হবে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলেও সেটি একটি বড় অর্জন হবে। 

তারা বলেন, এ কথা সত্য, সরকারের হাতে জাদু নেই। বড় সংকট দিনে দিনেই কাটানো সম্ভব নয়। ফলে সরকারের বক্তব্য যথাযথই। তবে দীর্ঘ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে আগামী দুই বছরে দেশের শিল্প উৎপাদন, অর্থনীতি ও জনজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও বহুমুখী চাপের মুখে পড়তে পারে। হাজার হাজার কারখানায় উৎপাদন কমে যাবে। বিদেশি অর্ডারও কমে যেতে পারে। হাজারও শ্রমিকের চাকরি হুমকির মুখে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে সরকারকে আরও সতর্ক ও বাস্তবমুখী হতে হবে। কারণ, যেভাবেই হোক শিল্প-কারখানা সচল রাখা, উৎপাদন ঠিক রাখাসহ এ জাতীয় কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

বর্তমানে রাস্তাঘাটে সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচলে প্রায় অচলাবস্থায় বাড়ছে ভাড়া, কর্মহীন হচ্ছেন চালক-শ্রমিকরা। দেখা দিয়েছে পানির সংকটও। বাসা-বাড়িতে রান্না-বান্না নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গৃহিণীরা। লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। কর্মজীবীদের ভোগান্তিও চরমে পৌঁছেছে। ফলে জীবন-জীবিকাসহ ঘর-গৃহস্থালিতে অচলাবস্থা দেখা দিচ্ছে। এর ওপরে বিদ্যুৎ না থাকায় বসতবাড়িতে গিয়েও শান্তি পাচ্ছেন না। এতে মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে গ্যাস না পেয়ে সড়ক অবরোধ করছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এরই মধ্যে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে সব ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মফস্বলে তীব্র চললেও এখন খোদ রাজধানীতে লোডশেডিং চলছে।

সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত চিত্র তৈরি করা জরুরি : জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোন জ্বালানি কোন খাতে, কোথায় এবং কী পরিমাণ ব্যবহার করা হবে এ বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইভি গাড়ি থেকে শুরু করে শিল্প ও বাসাবাড়িতে ভবিষ্যতে জ্বালানির চাহিদা কী হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি সংমিশ্রণ কেমন হবে এসবের একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত চিত্র তৈরি করা জরুরি।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে : কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো প্রয়োজন। পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে। এক্ষেত্রে মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানির চাহিদা সঠিকভাবে নিরূপণ করাই গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

বাসাবাড়ি ও শিল্পে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো : তিনি বলেন, বাসাবাড়িতে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সবচেয়ে সরাসরি বিকল্প জ্বালানি হলো এলপিজি। কারণ, এলপিজি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আমাদের রয়েছে। যানবাহনে সিএনজির বিকল্প হিসেবে অটোগ্যাসের ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। কিছু শিল্পেও এলপিজির ব্যবহার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের মোট ব্যয়ের তুলনায় জ্বালানি ব্যয়ের অংশ তুলনামূলকভাবে কম, সেসব ক্ষেত্রে এলপিজি ব্যবহার করা যেতে পারে। ইতিমধ্যে অনেক শিল্প উদ্যোক্তা নিজেদের উদ্যোগে এলপিজি ব্যবহার শুরু করেছেন।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞ কোম্পানিকে কাজে লাগানো : এ পরিস্থিতিতে দ্রুত তৃতীয় পক্ষের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন ক্রমেই কমছে, সেগুলোর উন্নয়ন এবং উৎপাদন ধরে রাখার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞ কোম্পানিকে পরামর্শক হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। শেভরন (মার্কিন বহুজাতিক শক্তি ও পেট্রোলিয়াম কোম্পানি) দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে গ্যাস উৎপাদন করে আসছে। দেশের গ্যাস সরবরাহ দ্রুত বাড়াতে শেভরনের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিও বিবেচনা করা উচিত। এসব উদ্যোগ এখন গ্রহণ করলেও ফল পেতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লেগে যেতে পারে। ফলে বর্তমান সংকট সামাল দিতে আমাদের এখনই বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগগুলো বিবেচনা করতে হবে।

গ্যাস চুরি বন্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া : গ্যাস চুরি বন্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চুরি হচ্ছে, মূলত অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। গ্যাস চুরি বন্ধ করা সম্ভব হলে প্রকৃত ব্যবহারকারীদের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।

সামগ্রিক দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ : জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রেও সামগ্রিক দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। গরমের সময়ে যে ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ ফ্যান ও এয়ারকন্ডিশনারের অতিরিক্ত ব্যবহার। আমাদের দেশে অধিকাংশ এয়ারকন্ডিশনার এখনো ইনভার্টার প্রযুক্তির নয়। ইনভার্টারযুক্ত এয়ারকন্ডিশনার ও রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করা হলে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। সর্বোপরি, শুধু একটি পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এসব উদ্যোগকে একটি সমন্বিত ও সম্মিলিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।

আমরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা নিয়ে লড়াই করছি : অর্থমন্ত্রী

চলমান গ্যাস সংকটের সমাধান প্রসঙ্গে আমাদের হাতে তো কোনো জাদু নেই এমন মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু করেছি। দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর জন্যও সর্বনিম্ন দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে। আমাদের হাতে তো কোনো জাদু নেই যে, আমরা হঠাৎ করে দ্রুত গ্যাস ফিরিয়ে আনব। গতকাল রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। ২০১১-১২ সাল থেকেই পেট্রোবাংলা গ্যাস আমদানিনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করে আসছে। 

২০১৬-১৭ সালে নিজস্ব উৎস (পেট্রোবাংলা ও আইওসি মিলিয়ে) থেকে গ্যাসের উৎপাদন যেখানে ২৭০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছিল, সেটা এখন কমে প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুটে এসে ঠেকেছে। এটা পেট্রোবাংলার অনেক বড় ব্যর্থতা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে গুরুত্ব না দিয়ে আমদানিনির্ভর হয়ে ওঠে। তাদের পরিকল্পনার অন্যতম অংশ ছিল ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এবং ল্যান্ড-বেজড রিগ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্ট স্থাপন। এখন দেখা যাচ্ছে, এর কোনোটিই প্রত্যাশামাফিক কার্যকর হয়নি।

তিনি বলেন, মহেশখালীতে মাত্র দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর ফলে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরের উৎস থেকে গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গত ১০-১১ বছরে যেসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোও কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, জ্বালানি খাতে আমাদের আমদানিনির্ভরতা থেকেই যাবে। তাই নিজস্ব কয়লা উৎপাদনের সম্ভাবনাও নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার। জ্বালানি খাতে আত্মনির্ভরতা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতার দিকেও আমাদের এগোতে হবে। ইন্টারকানেকটিভিটি গড়ে উঠলে নেপাল, ভুটান, ভারত ও মিয়ানমারে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ তৈরি হবে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  দীর্ঘ লড়াই   দেশ   জ্বালানি সংকট  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close