ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এডিস মশাবাহিত এ রোগটিতে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বর্তমানে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দিনের দেখা খুব কমই মিলছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রয়োজন টেকসই ব্যবস্থা। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৫ দিনেই মারা গেছে ১১৪ জন।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুতে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের ২৫ দিনেই ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৯৫৫ জন গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৭০ হাজার ১০৪ জন। গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত দুজনই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৮২৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছে ৯৫৩ জন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের এই ২৫ দিনে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের মাসে অর্থাৎ আগস্টে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছিল ৪৩ জনের। এছাড়া জুলাই মাসে ৩৬, জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে মে মাসে ১, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সবমিলিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১০২ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে ৪ জন ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
পাশাপাশি এ সময়ে ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন ছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩, খুলনা বিভাগে ১৩০, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬, বরিশাল বিভাগে ৪৪, রংপুর বিভাগে ৪৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে সতর্কবার্তা দেয় ডব্লিউএইচও। সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি এবং শরীরে ফুসকুড়ি থাকতে পারে।
ডব্লিউএইচও বলছে, ডেঙ্গুর উপসর্গ সাধারণত সংক্রমিত মশার কামড়ের ৪ থেকে ১০ দিন পর দেখা দিতে পারে। জ্বর কমে গেলেই বিপদ কেটে গেছে— এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়; গুরুতর ডেঙ্গুর সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
কেকে/সাশ