রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় বাসাবাড়ির চুলা জ্বলছে না বা গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকছে। কিছু এলাকায় মিটমিট করে আগুন জ্বললেও একটি রান্না শেষ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২১ জুলাই থেকে সংকট সৃষ্টি হলেও সম্প্রতি গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এতে বাসাবাড়ির গ্যাসের চুলায় রান্নাসহ শিল্পকারখানার কার্যক্রম অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। কিন্তু গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ না থাকায় রাজধানীর বাসাবাড়িতে গৃহিনীরা রান্নাবান্না করতে পারেননি।
রান্না বন্ধ থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে হোটেল থেকে অতিরিক্ত দামে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে কিংবা বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা, ইনডাকশন কুকার বা বিকল্প জ্বালানির শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। এতে পারিবারিক খরচ ও দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে গেছে। যদিও সরকার বলছে, মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে এলএনজি স্থানান্তর শুরুর পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে থাকে। এর ফলে শুক্রবার সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। রাজধানীতে গতকাল বাসাবাড়ির চুলায় কোনো গ্যাসই মেলেনি।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই চুলায় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্না হয়নি। আমি নাশতা না করেই কাজে বেরিয়ে পড়ি। দুপুরে আমায় ফোন করে জানান, চুলায় গ্যাসের চাপ নেই। আমি যেন হোটেল থেকে খাবার কিনে নিয়ে বাসায় যাই। পরে খাবার কিনে নিয়ে বাসায় গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করি। গ্যাস না থাকলে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা বলে শেষ করা যাবে না। মাঝখানে তো গ্যাস ভালোই ছিল। এখন আবার কী হলো তা বুঝতে পারছি না।
ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, গ্যাস না থাকায় সকালে বাসায় রান্না হয়নি। না খেয়েই কাজে বেরিয়ে যাই। বিকালে বাসায় ফোন করে জানলাম স্ত্রী-সন্তান বাইরে থেকে খাবার কিনে খেয়েছে। গ্যাস সংকট যখন শুরু হয়, তখন এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। সম্প্রতি শুনলাম গ্যাস সরবরাহ নাকি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। কিন্তু এখন কেন এমন হচ্ছে?
গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির কথা বলছে পেট্রোবাংলা
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে টোটাল এনার্জির মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে কেনা এলএনজিবাহী কার্গো থেকে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে মহেশখালীর সামিট টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে থাকে।
তিনি বলেন, সকাল ৭টা থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, শিল্পকারখানাসহ আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন হয়।
পেট্রোবাংলার হিসাবে, গতকাল সকাল ১০টার দিকে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩৪১ মিলিয়ন ঘনফুট। এ সময় দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ ছিল এক হাজার ৬০৩ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আরএলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ৭৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট। দুপুর ২টার দিকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়। এ সময় দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ ছিল এক হাজার ৬০৭ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আরএলএনজি থেকে সরবরাহ ছিল ৯১৮ মিলিয়ন ঘনফুট।
কেকে/সাশ