বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি আজ      বোয়িংয়ের আরও ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে বিমান বাংলাদেশ      দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক      হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনের প্রাণহানি      বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চের ভাড়া      চলতি বছর স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই: মীর শাহে আলম      বাস-মিনিবাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি      
খোলাকাগজ স্পেশাল
হাম-ডেঙ্গুর মধ্যেই অ্যানথ্রাক্সের হানা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৮ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

হাম ও ডেঙ্গুর প্রদুর্ভাবের মধ্যে দেশে দেখা দিয়েছে অ্যানথ্রাক্স। এরই মধ্যে শতাধিক অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া গাইবান্ধা, মেহেরপুর, রংপুর ও দিনাজপুরে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে নারী-শিশুসহ অন্তত ২০ জনের শরীরে ক্ষত দেখা দিয়েছে। এর আগে ওই এলাকার একটি গাভি অসুস্থ হলে সেটি জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করে নেন স্থানীয়রা। সেই মাংস খাওয়ার পর অনেকের শরীরে বিভিন্ন অংশে ফোসকা ও ঘা হয় এবং জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।

আইইডিসিআরের তথ্যানুযায়ী, অ্যানথ্রাক্স প্রাণীবাহিত বা জুনোটিক রোগ। মাটিতে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু থাকে। ঘাস বা ঘাসজাতীয় খাবার খাওয়ার সময় গরু-মহিষের মতো তৃণভোজী প্রাণী অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়। অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গরু বা মহিষ থেকে অ্যানথ্রাক্স মূলত মানুষে আসে। অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গরু বা মহিষের মাংস নাড়াচাড়া করলে, কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ মাংস খেলে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে মানুষ থেকে মানুষে অ্যানথ্রাক্স ছড়ায় না।

আইইডিসিআর জানিয়েছে, গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা এবং মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়েছে। এ ছাড়া রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলায় এবং দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুই মাস আগে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স দেখা দিয়েছিল। দুই মাসে পাঁচ জেলায় শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির গাভী অসুস্থ হয়। গত শুক্রবার অসুস্থ গরুটি তড়িঘড়ি করে জবাই করে এলাকার লোকজন মাংস ভাগাভাগি করে নেন। মাংস কাটাছেঁড়া ও জবাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এলাকার বেশ কয়েকজন। তারা শুক্রবার মাংস রান্না করে খেয়ে ফেলেন। শনিবার গ্রামের অনেকের শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোসকা, ঘা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। 

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠে দেখা যায়, তীব্র রোদেও জ্বর ও পেটে বড় আকারের ফোসকা নিয়ে শুয়ে আছেন জয়নাল আবেদীন। অন্য আক্রান্তরা হলেন রুমি বেগম, রশিদা বেগম, আব্দুল জলিল, সফিউল ইসলাম চান মিয়া, শফিক, জয়নাল আবেদীন, আব্দুর রশিদ, গোলেজান বেগম, রাবেয়া খাতুন, রাহেলা খাতুন, শরিতোন নেছা, দোলেনা আকতার, আজমিন আরা, ফাহিমা, ফুলমতি বেগম, নুর আকাইদসহ ২০ জন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান জানান, অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে পূর্ব বাছহাটি গ্রামের ২০ জন রোগী জরুরি বিভাগে এসেছেন। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কের কিছু নেই। চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হয়। আশা করি তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ইতঃপূর্বেও রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫ জন। সেটা সামাল দিতে সামাজিকভাবে বিভিন্ন বৈঠক ও উপজেলা প্রশাসন থেকে সতর্কতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। কসাইদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গবাদিপশু জবাই করার আগে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ছাড়পত্র নেওয়ার বিষয়ে মাইকিং করা হয়েছে; কিন্তু এসব আইন বা নিয়মের তোয়াক্কা না করায় মানুষ বারবার আক্রান্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে গত সোমবার সকালে সুন্দরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে সচেতনমূলক সভা আহ্বান করা হয়েছে।

এদিকে আগস্ট মাসে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৩৮ জন শনাক্ত হয়। আর সেপ্টেম্বরে শনাক্ত হয়েছে ১৮ জন। তারা মূলত অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রুগ্ন ছাগলের মাংস কাটাকাটি বা নাড়াচাড়ার কারণে আক্রান্ত হয়েছে। তবে তাদের কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়নি।

অন্যদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দুটি গ্রামের অন্তত ১৫ জন মানুষ দুই মাস আগে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের প্রত্যেকের রুগ্ন গরুর মাংসের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস আছে।

দেশের কোথাও কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে আইইডিসিআর সেখানে অনুসন্ধান দল পাঠায়। আইইডিসিআর তাদের অনুসন্ধান দল সুন্দরগঞ্জেও পাঠিয়েছে। ওই দল প্রাদুর্ভাবের কারণ জানার চেষ্টা করছে। 

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে ১০০ শতাংশ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এ দায়িত্ব পশুসম্পদ অধিদপ্তরের। অন্যদিকে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গরু-মহিষ বা অন্য কোনো পশুকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিধিমোতাবেক মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। আক্রান্ত গবাদিপশু যেন কেউ জবাই বা বিক্রি না করে, সে ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রাণিসম্পদ বিভাগেরও নজরদারি বাড়াতে হবে।’

অ্যানথ্রাক্স মানুষের ত্বকে, গলার ভেতরে ও পাকস্থলীতে দেখা দেয়। তবে ত্বকেই বেশি দেখা দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকে চুলকানিযুক্ত লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়, ফুসকুড়ি একপর্যায়ে ফোসকায় পরিণত হয়। দ্রুত রোগ শনাক্ত না হলে, ঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে অ্যানথ্রাক্সে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  হাম-ডেঙ্গু   অ্যানথ্রাক্স   হানা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close