২০১১ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ। ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলের মধ্যে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় পরীক্ষা। ঢাকার মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে প্যাট কামিন্স-মিচেল স্টার্কবিহীন অজি বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে শুরুতেই ঝড় তুললেন দারুণ ফর্মে থাকা তানজিদ হাসান তামিম। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে দারুণ জুটি গড়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিলেন। তবে তানজিদ আর শান্তর বিদায়ের পর অনেকটাই মন্থর হয়ে পড়ে রানের গতি। আর এমন সময়েই ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। প্রত্যাবর্তন রাঙালেন দারুণ এক ইনিংসে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করেছে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই সাইফ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। ৫ রান করে নাথান এলিসের শিকার হন এই ওপেনার।
তবে, সাইফের বিদায়ের প্রভাব পড়তে দেননি তানজিদ তামিম ও অধিনায়ক শান্ত। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৯৬ রান যোগ করে এই জুটি। ঝড় তুলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তানজিদ।
১৭তম ওভারে তানজিদকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন এলিস। আউট হওয়ার আগে ৪৪ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি।
চারে নেমে লিটন দাস ব্যর্থ হয়েছেন। ৯ বলে ৭ রান করে ম্যাট রেনশর বলে তার হাতেই ক্যাচ দেন। এর কিছুক্ষণ পর শান্তও বিদায় নেন। তার আগে অবশ্য হাঁকিয়েছেন অর্ধশতক। ৮৬ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৬৭ রান করে রেনশর দ্বিতীয় শিকার হন টাইগার অধিনায়ক।
শান্তর বিদায়ের পর নামেন মোসাদ্দেক। ২০২২ এর আগস্টের পর এটিই জাতীয় দলের হয়ে তার প্রথম ওয়ানডে। তবে দলে ফিরে মানিয়ে নিতে সময় নেননি এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে তুলেছেন ঝড়। অন্যদিকে তাওহীদ হৃদয় বেশ মন্থর ব্যাটিং করেছেন। এই জুটিতে যোগ হয় ৭৫ রান।
৫১ বলে মাত্র ১ চারে ৩১ রান করে বার্টলেটের বলে আউট হন তাওহীদ।
দুই ওভার পর বিদায় নেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। স্কটের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ১২ বলে করেন ৩ রান। তানভীর বিদায় নেন ৫ রান করে।
অষ্টম উইকেট জুটিতে তাসকিনকে সঙ্গী করে ৪৫ রান যোগ করেন মোসাদ্দেক। তাসকিন ১৬ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২০ রান করেন।
চার বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন। তার ৭০ বলে খেলা ৮৬ রানের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে এলিস মাত্র ৩৮ রান খরচায় তিন উইকেট শিকার করেন। লিয়াম স্কট ও রেনশ দুইটি করে এবং বার্টলেট একটি উইকেট শিকার করেন।
কেকে/এমএ