কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার পূর্বাঞ্চলীয় দুর্গম ও অবহেলিত চারটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘বাঁকখালী উপজেলা’ বা ‘পূর্বসীমান্ত উপজেলা’ বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়ে স্মারকলিপি ও আবেদন জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামাজিক সংগঠন ‘পূর্ব সীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্ক’।
আবেদনে অন্য দুটি দাবি হলো, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া বাজার পূর্বসীমান্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ এবং গর্জনিয়া বাজারকেন্দ্রিক একটি হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) স্থাপন।
অবহেলার চিত্র ও নতুন উপজেলার যৌক্তিকতা তুলে ধরে আবেদনে বলা হয়, রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড় ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজারের বেশি। ভৌগোলিক দূরত্ব ও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই বিশাল জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সরকারি বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়
দূরত্বের ধকল: রামু উপজেলা সদর থেকে ঈদগড়ের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার এবং গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।
যাতায়াতের ভোগান্তি: এই অঞ্চলের মানুষকে জেলা বা উপজেলা সদরে যেতে হলে পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়, যা চরম প্রশাসনিক ও যাতায়াতজনিত ভোগান্তির সৃষ্টি করে।
কৃষকদের লোকসান ও চাঁদাবাজি: কৃষি উৎপাদনে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের সময় একই পণ্যের জন্য অন্তত চারবার (যার মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়িতেই দুইবার) চাঁদা দিতে হয়।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, নতুন উপজেলা গঠিত হলে এই অঞ্চলের প্রায় ২ লাখ মানুষ দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে এবং সরাসরি সরকারি সেবার আওতায় আসবে।
সীমান্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের দাবি
আবেদনের দ্বিতীয় অংশে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া বাজার সড়কটির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ-মিয়ানমার স্থলসীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দিন-রাত নিয়মিত সেনাবাহিনী ও বিজিবি টহল দিয়ে থাকে। চারটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধার্থে সড়কটিকে জরুরি ভিত্তিতে চার লেনে উন্নীত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
হিমাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা
তৃতীয় দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অঞ্চলটি কক্সবাজার জেলার ‘শস্যভাণ্ডার’ হিসেবে খ্যাত। এখানকার ২ লক্ষাধিক কৃষকের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে এবং পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য গর্জনিয়া বাজারকেন্দ্রে একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় হিমাগার স্থাপন অত্যন্ত জরুরি।
স্মারকলিপি প্রদান ও অনুলিপি প্রেরণ
‘পূর্ব সীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্ক’-এর পক্ষে আবেদনটিতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনের সভাপতি মঈনুদ্দিন খালেদ, সাধারণ সম্পাদক এস. এম. হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আনোয়ার এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইব্রাহিম খলিল মামুন ও নেজাম উদ্দিন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে এ দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আবেদনটির অনুলিপি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
কেকে/এলএ