ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানো হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, বুধবার (১০ জুন) গভীর রাতে চালানো এই হামলা ছিল ‘ইরানের অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের’ জবাব।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় কারগান শহরেও বিস্ফোরণে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গত এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া ‘অবৈধভাবে’ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। একই সঙ্গে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে তারা।
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত দুই দিন ধরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের দাবি, তারা বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কেশম দ্বীপ, সিরিক, জাস্ক এবং বন্দর আব্বাস বন্দরে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। তাদের দাবি, এসব হামলায় দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে এবং একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেকে/ এমএস