বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, ‘নতুন অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রস্তাবনায় ‘সামর্থ্যের মধ্যে জনপ্রত্যাশা পূরণের আধা-আধি প্রচেষ্টা রয়েছে। এতে সমাজের নানা অংশকে তুষ্ট করার চেষ্টা আছে। তবে, বিশাল অংকের ঘাটতি বাজেটের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উপরই বর্তাবে।’
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে সাইফুল হক আরও বলেন, ‘ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। টাকার অঙ্কে বাজেটের আকারে বড় উল্লম্ফন ঘটলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। কারণ ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার অর্জনের ওপরই মূলত বাজেট বাস্তবায়নের সাফল্য নির্ভর করবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি ও রাজস্ব সংগ্রহে দক্ষতা প্রদর্শন করা গেলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব নয়।’
বিবৃতিতে সাইফুল হক বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামোয় জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৬ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাকে তেমন উচ্চাভিলাষী নয় বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতিকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যকে বাস্তবসম্মত বলে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে প্রবৃদ্ধির কোনো খতিয়ানই জনকল্যাণে কাজে আসবে না।’
বাজেটের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সাইফুল হক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তার মতে, এ জন্য অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে সর্বোচ্চ প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা ও উৎপাদনমুখী ও শ্রমঘন নতুন শিল্প উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রতি বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনীর আওতায় ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তাবনাকে ইতিবাচক উল্লেখ করলেও সাইফুল হক বলেন, ‘এসব প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর হবে না। এর জন্য প্রয়োজন আত্মকর্মসংস্থানভিত্তিক উৎপাদনশীল ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ।’
সাইফুল হক আরও বলেন, ‘খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও আশাব্যঞ্জক কোনো প্রস্তাবনা এবারের বাজেটে দেখা যাচ্ছে না।’
একইসঙ্গে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার পুরোনো ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও তিনি সমালোচনা করেন।
‘এসব তৎপরতা প্রকারান্তরে অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে নতুন করে উৎসাহিত করবে।’
সাইফুল হক আরও বলেন, ‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে বরাদ্দ এখনও অপ্রতুল।’
তাই, শিল্প ও কৃষির মতো মৌলিক খাতে বর্ধিত বরাদ্দ দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
কেকে/এমএ