আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ঋণনির্ভর ও উচ্চাভিলাষী অখ্যায়িত করেছে খেলাফত মজলিস।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর দলটির আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঋণনির্ভর এ বিশাল ঘাটতি বাজেটে অর্থনৈতিক সংকট দূর হবে না’।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত এ বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংকের ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি মেটাতে দেশ-বিদেশ থেকে চড়া সূদে ঋণ নিতে হবে সরকারকে। বিশেষ করে দেশীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিবে। এতে বেসরকারি ও ব্যক্তিগত খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। যদিও তা গত বছরের চেয়ে ৬ হাজার কোটি টাকা কম, যা ইতিবাচক। বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ব্যয়ের বিশাল অংশ খরচ হবে ঋণের সুদ পরিশোধে, অর্থাৎ ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।’
‘বাজেট ব্যয়ের বৃহত্তম খাত হচ্ছে সুদ পরিশোধ। পরিচালন ব্যয় ও সুদ পরিশোধের মত অনুন্নয়ন খাতেই ব্যয় হবে বাজেটের অধিকাংশ অর্থ। বাজেটকে সব শ্রেনি পেশার মানুষের জন্য নিরাপদ বলা হলেও বাস্তবে এর কোন সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। আর প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও বাস্তব সম্মত নয়। অর্থনৈতিক গনতন্ত্রায়নের কথা বলা হলেও বাজেটে এর প্রতিফলন নেই।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রতিটিতে পর্যায়ক্রমে জিডিপি বরাদ্দের টার্গেট ৫ শতাংশ করাকেও ইতিবাচক মনে করি এবং আগামী ২ বছরের মধ্যে তা বাস্তবায়ন চাই। ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল অবশ্যই ভালো উদ্যোগ।’
‘কিন্তু ঋণ নির্ভর বাজেটের কারণে জনগণের উপর জাতীয় ঋণের বোঝা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ সংকটের নিপতিত হতে বাধ্য। বিনিয়ন্ত্রকরণ ও সাশ্রয়ী ও সহজীকৃত ব্যবসায়ের পরিবেশের কথা বলা হলেও যেভাবে ট্যাক্সের জালে খুচরা ব্যবসায়ীদের আটকানোর কথা এসেছে, আমরা তাতে হতাশ। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা মূল্যস্ফীতির সাথে সমন্বয় করার কথা বলা হলেও সাধারণ জনগণের বিষয়ে কোন কমিটমেন্ট নেই।’
বিবৃতিতে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরৎ আনা, মূল্যস্ফীতি রোধ, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও অপচয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
কেকে/এমএ