মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মুজিব আলীর লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর চেকপোস্টে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-বিএসএফের উপস্থিতিতে বাংলাদেশি পুলিশের কাছে লাশ হস্তান্তর করে ভারতীয় পুলিশ।
এ সময় বিজিবি ও পুলিশের পাশাপাশি নিহত মুজিব আলীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত মুজিব আলী উপজেলার দত্তগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা ও মো: অজিব আলীর ছেলে।
মুজিবের পরিবারের দাবি, মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বিকালে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন মুজিব। পরে তারা জানতে পারেন, বিএসএফের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন।
তবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মুজিব দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং চোরাই পণ্য আনার জন্য ভারতে ঢুকেছিলেন।
এদিকে, বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবের ঘটনায় শনিবার দুপুরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নিহতের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি।
শ্রীমঙ্গলস্থ ব্যাটালিয়ন ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘শনিবার দুপুরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরাই কল করেছিলাম, পরে তারা এসেছি। বৈঠকে আমরা শক্ত প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং তাদের ব্যাটালিয়ন কমান্ডারকে লিখিত প্রতিবাদলিপিও পাঠিয়েছি।’
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে চার্জ করেছি, তারা কি কারণে ফায়ার ওপেন করল? ওরা যেটা বলেছে যে, সেলফ ডিফেন্সের জন্য ওরা ফায়ার করেছে। এখানে শুধু বাংলাদেশি ছিল না, সেখানে ভারতীয় চোরাকারবারিরাও ছিল। সবমিলে ১৪-১৫ জন চোরাকারবারি তাদের ওপর নাকি আক্রমণ করেছিল। আমরা তাদের কথা আমলে না নিয়ে বলেছি, না এটা ইচ্ছাকৃত একটা হত্যা, আমাদের একটা নিরিহ মানুষকে এভাবে আপনারা মেরে ফেলছেন।’
কুলাউড়া থানার পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিএসএফ মুজিবুরের লাশ হস্তান্তর করেছে। এ সময় উভয় দেশের পুলিশ, বিজিবি, বিএসএফ ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।’
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে মুজিব নিহত হন।
কেকে/এমএ