বন্ধুর চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন গাজীপুরের কালীগঞ্জের বিল্লাল মাঝি। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পথে হঠাৎ বুকে ব্যথা ওঠে তার। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বন্ধুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত হাবিবুর রহমানও পরদিন মারা যান। দুই বন্ধুর মরদেহ এখন কলকাতার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।
নিহত বিল্লাল মাঝি (৫০) গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইশ গ্রামের করম আলী মাঝির ছেলে। অপর নিহত হাবিবুর রহমান (৫৭) একই জেলার কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের আসাম উদ্দিনের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্ধু হাবিবুর রহমানের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে প্রায় ২৫ দিন আগে ভারতে যান বিল্লাল মাঝি। কলকাতার ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালে হাবিবুরের চিকিৎসা শেষে গত ৯ আগস্ট তারা দেশে ফেরার জন্য রওনা হন।
ফেরার পথে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন বিল্লাল। পরে তাকে কলকাতার এমআর ভাঙ্গুর ডিস্ট্রিক্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বন্ধুর আকস্মিক মৃত্যুতে হাবিবুর রহমান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এর পরদিন তিনিও মারা যান বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বর্তমানে দুজনের মরদেহই ওই হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
এদিকে দুই বন্ধুর পরপর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের নিজ নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। দ্রুত মরদেহ দেশে এনে পারিবারিকভাবে দাফন করার জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
বিল্লাল মাঝির মেয়ে আফরোজা আক্তার বলেন, ‘দুই বন্ধুর পরপর মৃত্যু হয়েছে। আমরা চাই, তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনা হোক। দেশের মাটিতেই যেন দাফন করতে পারি, এ জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম বলেন, ‘মরদেহ দুটি দেশে আনার ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, সেটিই আমাদের দাবি।’
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারা যোগাযোগ করলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।’
কেকে/এলএ