মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে বললো দূতাবাস      ● চকবাজারের আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ছড়িয়েছে পাশের ভবনে      ● আবুধাবি টেস্টে জয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ      ● ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত      ● হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৪২১      ● ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু, চলতি বছরে আক্রান্ত লাখ ছাড়ালো      ● ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে করের ৬৬৬ কোটি টাকা দিতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ      
দেশজুড়ে
মৌলভীবাজারে ৩৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত, হামে মোট প্রাণহানি ১৫
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে প্রাণঘাতী হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ। একই সাথে পাল্লা দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডারিয়ার মতো ঋতুভিত্তিক নানা ব্যাধি। এ পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৮৮৪ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ গেছে অন্তত ১৫টি শিশুর। শুধু আইসোলেশন ওয়ার্ডেই বর্তমানে ভর্তি আছেন ৫০ জন হাম রোগী, যার মধ্যে ২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৩০ জন শিশু। 

পাশাপাশি জেলায় এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের দেহে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩২ জন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন এবং বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ১ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২ জন ভর্তি রয়েছেন। 

এ ছাড়া জেলা সদর হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডেও দেখা গেছে রোগীর চাপ। শিশু ওয়ার্ডে ৬২ জন, স্কেনো ওয়ার্ডে ২১ জন, মেডিসিন ওয়ার্ডে ৩৯ জন এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৭ জন ভর্তি রয়েছেন। সব মিলিয়ে জেলাজুড়ে রোগব্যাধির এক ত্রাহি অবস্থা বিরাজ করছে। 

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চরম বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। বেডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকে হাসপাতালের মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে রোগী ও তাদের স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। 

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ভয়াবহ এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, পুরো জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৮৪ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৭৬ জনের। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছে মোট ৩৭ জনের। 

এ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন সহস্রধিক মানুষ চিকিৎসা সেবার জন্য ভিড় করছেন। কেবল জেলা সদর হাসপাতালই নয়, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিকগুলোতেও উপচে পড় ভিড় দেখা গেছে। 

সদর হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের মেঝে ও চলাচলের পথে গায়ে গায়ে লেগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শত শত রোগী। 

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. প্রনয় কান্তি দাশ বলেন, ‘সদর হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী সামলাতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও সাধ্য নিয়ে বিশাল সংখ্যক রোগীকে একসঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিতে মারাত্মক হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলাজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।’ 

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘জেলায় এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের দেহে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে প্রাণঘাতী হামও। তবে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় ২১ হাজার ৩৪৪ জন শিশুকে হামের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হবে। সংক্রমণ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এ টিকাদান কার্যক্রম ও প্রতিরোধমূলক লড়াই অব্যাহত থাকবে।’

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  মৌলভীবাজার   ডেঙ্গু   হাম   প্রাণহানি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close