বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের ওপর সংঘবদ্ধ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে মোজাফফর আহমদ (৫৩) নামের এক ব্যক্তিকে গুরুতর জখম করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে মৎস্য প্রজেক্টের পচা পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ৫ নম্বর সরই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী পাড়া ছালামের দোকানের সামনে ইটের রাস্তার ওপর এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শনিবার (১৪ জুন) লামা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মামলা নম্বর: ৬/২০২৬।
মামলার এজাহার ও প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সরই ইউনিয়নের বটতলী পাড়ার বাসিন্দা মোজাফফর আহমদের সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন দুপুরে ভুক্তভোগী মোজাফফর আহমদ কেয়াঁজুপাড়া বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ওত পেতে থাকা আসামিরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও ছুরি নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১ নম্বর আসামি মো. ইসলাম (৬০) হত্যার উদ্দেশ্যে নির্দেশ প্রদান করলে ২ নম্বর আসামি মো. মুসা (৪৭) ও ৩ নম্বর আসামি মো. শামসুল আলম (৪৪) ভুক্তভোগীর দুই হাত চেপে ধরেন। এ সময় ১ নম্বর আসামি মো. ইসলাম তার হাতে থাকা বড় রামদার উল্টো পিঠ দিয়ে সজোরে আঘাত করে মোজাফফর আহমদের বাম হাতের হাড় ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে ৭ ও ৯ নম্বর আসামির হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে পিঠে এলোপাতাড়ি কোপ মারলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর অন্যান্য আসামিরা লোহার রড ও লাথি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করে। একপর্যায়ে ৫ ও ৬ নম্বর আসামি ভুক্তভোগীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে দুই পায়ের রানে পিটিয়ে থেঁতলে দেয় এবং পার্শ্ববর্তী একটি মৎস্য প্রজেক্টের পচা পানিতে ফেলে দেয়।
ঘটনার সময় হামলাকারীরা ভুক্তভোগীর পকেট থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা, ২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন এবং ২০০ টাকা মূল্যের একটি ছাতা ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীর বোন মিটু বেগম ঘটনা দেখে পার্শ্ববর্তী কেয়াঁজুপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
আহত মোজাফফর আহমদকে প্রথমে দ্রুত লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (রেজি নং-১৫৫৯/৯) ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চমেক হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে (রেজি নং-৫২৯৬২৩) গত ১১ জুন পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এই এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
লামা থানা পুলিশ দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২)/১১৪ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করেছে। মামলায় মোট ৯ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন— মো. ইসলাম (৬০), মো. মুসা (৪৭), মো. শামসুল আলম (৪৪), মো. জাহেদুল ইসলাম (৩০), বদিউল আলম (৪৫), শাহেদ (২৬), সিরু আক্তার (৪৮), মো. আলমগীর (২৫) এবং নুরুচ্ছাফা বেগম (৪০)। তারা সবাই সরই ইউনিয়নের বটতলী পাড়ার বাসিন্দা।
সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর দীপন পাল জানান, ঘটনার বিষয়ে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেকে/এলএ