ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা অংশে গাড়ির ধাক্কায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার পরিচয় শনাক্ত করা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার বাউশিয়া মানাবে ওয়াটার পার্ক সংলগ্ন ইউটার্নে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম হাবিবুল্লাহ (৩৩)। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার অলিপুরা বাজার কাজীপাড়া এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে।
হাইওয়ে পুলিশ ও পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত দেড়টার দিকে বাউশিয়া মানাবে ওয়াটার পার্ক সংলগ্ন ইউটার্নে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ি ওই যুবককে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনি মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে ভবেরচর হাইওয়ে থানা-পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাবিবুল্লাহকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ভবেরচর হাইওয়ে থানা পুলিশের সার্জেন্ট সাইমুন ইসলাম জানান, নিহত ব্যক্তি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। এর আগেও তাকে বেশ কয়েকবার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। রাতে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর পর নিহতের কোনো পরিচয় না পাওয়ায় হাইওয়ে পুলিশ লাশ শনাক্তকরণের জন্য পিবিআইকে জানায়। খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জ পিবিআই দ্রুত কার্যক্রম শুরু করে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জ জেলা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে দ্রুত অজ্ঞাত ওই লাশের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হই।’
ভবেরচর হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মো. শাহ কামাল আখন্দ বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের পর তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘাতক গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
কেকে/এমএ