যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ফ্রিল্যান্সার-নির্ভর বিজনেস সল্যুশন প্ল্যাটফর্ম বিজমেকার তাদের সর্বশেষ ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছে।
১৪-১৫ জুন আয়োজিত এ উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল তরুণদের দক্ষতা চিহ্নিত করা, দক্ষতা আরও বিকশিত করা ও বাস্তব জীবনের উপযোগী করে তা প্রয়োগে সহায়তা করা।
বিজমেকার শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার ব্যবধান কমাতে কাজ করছে; প্ল্যাটফর্মটি সোয়াইপ-ভিত্তিক ম্যাচিং পদ্ধতির মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ স্থাপন করে। ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটি শিক্ষার্থীদের বাস্তবধর্মী জ্ঞান, বাজার-উপযোগী দক্ষতা এবং নিজেদের আগ্রহ ও সম্ভাবনাকে অর্থবহ ক্যারিয়ারে রূপান্তরের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এ আয়োজন যবিপ্রবির ক্যাম্পাসে স্থাপিত একটি বড় তাঁবুতে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি উন্মুক্ত ছিল। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বিজমেকারের প্রতিষ্ঠাতা এএসএম রাফিউল হক সোমবার (১৫ জুন) যবিপ্রবির অডিটোরিয়ামে ‘প্যাশন টু পসিবিলিটি’ শীর্ষক ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি ফ্রিল্যান্সিং খাতের বর্তমান অবস্থা, ডিজিটাল অর্থনীতিতে এর সম্ভাবনা এবং কীভাবে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা, আগ্রহ ও ধারণাকে টেকসই পেশাগত সুযোগে রূপান্তর করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করেন।
সেশনে একটি আকর্ষণীয় ইন্টারঅ্যাকটিভ গেমের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ব্যক্তিত্ব, সক্ষমতা ও আগ্রহ অনুযায়ী কোন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং বা পেশা তাদের জন্য বেশি উপযোগী, তা যাচাই করার সুযোগ পান।
এছাড়াও, অংশগ্রহণকারীদের সামনে বিজমেকার প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপের লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন উপস্থাপন করা হয়। যেখানে কীভাবে এই প্ল্যাটফর্ম দক্ষ জনবলকে বিভিন্ন কাজ ও ব্যবসায়িক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে তা দেখানো হয়।
এ সম্পর্কে রাফিউল হক বলেন, “তরুণরা বছরের পর বছর ধরে শিখছে; কিন্তু, তারা তাদের শেখা বিষয়গুলোর সাথে বাস্তবে প্রয়োগের কোনো মিল খুঁজে পায় না। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের নিজেদের সম্ভাবনা খুঁজে পেতে সহায়তা করা, বাজার-উপযোগী দক্ষতা চিহ্নিত করতে সহায়তা করা এবং আধুনিক কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতার জন্য তাদের প্রস্তুত করে তোলা। ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা তরুণদের কেবল একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব দক্ষতা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে চাই; যা তাদের জন্য প্রকৃত অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে।”
যবিপ্রবিতে এই আয়োজনটি বিজমেকারের চলমান তারুণ্য-নির্ভর কার্যক্রমের সর্বশেষ সংযোজন। এর আগে প্ল্যাটফর্মটি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল ইয়ুথ ফেস্টিভাল ও গুলশান ক্লাবের ফ্লো ফেস্টে অংশগ্রহণ করে; যেখানে দক্ষতা উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও কর্মমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায় বিজমেকার। ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তরুণদের সম্ভাবনাকে বাস্তব সুযোগে রূপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রযুক্তি, কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্স অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে চায় বিজমেকার। একইসাথে, স্থানীয় প্রতিভাদের দেশের ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কার্যকর অবদান রাখার ক্ষেত্রে সক্ষম করে তুলতে কাজ করা যাচ্ছে তারা।
কেকে/এমএ