এক কাতারে সকলকে মিলেমিশে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকলের জন্য একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার আগারগাঁও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সমাজসেবা কার্যালয়ের রোগী কল্যাণ সমিতি কর্তৃক স্ট্রোকে প্যারালাইজড রোগীদের সরকারি আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অনুষ্ঠানে জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এদেশ এবং জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এবারের বাজেটে দুঃস্থ, অসহায়, অস্বচ্ছল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যউন্নয়নে ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে এবং সব ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।’
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস-চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. রফিকুল বাসার লেবু।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা অফিসার মো. মজিবুর রহমান।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী স্ট্রোকে আক্রান্ত ৪০০ জন প্যারালাইজড রোগীর মধ্যে ১০০ জনের মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেন। তিনি রোগীদের সাথে কথা বলেন এবং কুশল বিনিময় করেন। মন্ত্রী রোগীদের আরোগ্য কামনা করেন।
এ সময় জাহিদ হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দেশের স্বাস্থ্যখাতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার দিয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা স্ট্রোকসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত অসহায় রোগীদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছি। স্ট্রোকে প্যারালাইজড হয়ে পড়া রোগীরা শুধু চিকিৎসা নয়, দীর্ঘমেয়াদি সহায়তারও প্রয়োজন হয়। এই অনুদান সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকারের লক্ষ্য হলো কোনো রোগী যেন চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে। তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় স্ট্রোক রোগীদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। এ ধরনের অনুষ্ঠান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে এমএ মুহিত বলেন, ‘একজন ডাক্তার হিসেবে জানি, হাসপাতালে দরিদ্র রোগীরা সেবা নিতে আসেন বেশি। এই দরিদ্র রোগীদের সেবা ও সুচিকিৎসা দিতে হবে, তাদের আর্থিক সাশ্রয়ের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। যাতে রোগীরা সেবা পেয়ে আপনাদের এবং হাসপাতালে সুনাম মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারে। এ জন্য আপনাদের বড় ভূমিকা রাখতে হবে ‘
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে কোনো অসহায় মানুষ আর একা থাকবে না। সরকার সব স্তরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’
অনুষ্ঠানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্বাচিত স্ট্রোকে আক্রান্ত প্যারালাইজড রোগীদের মাঝে আজ আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। এই অনুদান রোগীদের ওষুধ, ফিজিওথেরাপি, পুনর্বাসন ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
রোগীকল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী এই কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে।’
অনুষ্ঠানে হাসপাতালের পরিচালক, নিউরোসায়েন্স বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ, রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রোগীদের পরিবারের সদস্যরা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই মানবিক উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কেকে/এমএ