যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলেরর মধ্যে স্বাক্ষরিত রূপরেখা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। লেবাননের সাথে শান্তিচুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল।
শনিবার (২৭ জুন) নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে নেতানিয়াহু বাহিনী। হামলার স্থানটি নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরে, যেটি নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, স্থলসেনা না থাকায় ড্রোন ব্যবহার করে এমন একজনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যাকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
শনিবার বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাঈম কাসেম চুক্তিটিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
গেল শুক্রবার (২৬ জুন) বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে পঞ্চম দফার আলোচনা শেষে ওয়াশিংটনে রূপরেখা চুক্তিটি সই হয়। চুক্তি সইয়ের পর এই প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন হিজবুল্লাহর প্রধান।
নাঈম কাশেম বলেন, ‘এই চুক্তি পুরোপুরি অবৈধ ও অকার্যকর। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রস্তাব, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।’
হিজবুল্লাহর প্রধান বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ লেবাননকে শত্রু ইসরাইলের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে নিয়ে যেতে পারে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
গতকাল শনিবার দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া এই ফ্রেমওয়ার্ক সমঝোতা দুই দেশের সংঘাতের অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী ইসরাইলের উপস্থিতি বজায় রাখার অধিকার স্বীকার করেছে।’
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই চুক্তি নিয়ে ইরান ও হিজবুল্লাহর হতাশা এবং সমালোচনাও শুনেছেন আপনারা। এই চুক্তির মাধ্যমে লেবানন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র মূলত স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে লেবাননে ইরান বা হিজবুল্লাহর মত সন্ত্রাসী সংগঠনের কোনো অবস্থান, কোনো সম্পৃক্ততা বা কোনো ভূমিকা নেই।’
ওয়াশিংটন ডিসিতে শুক্রবার (২৬ জুন) চুক্তি ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চুক্তি সই হয়। সইয়ের কয়েক ঘণ্টা পরই চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর।
চুক্তিতে ‘ধাপে ধাপে এগোনোর প্রক্রিয়া’র (সিকুয়েন্সড প্রোসেস) কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে লেবানিজ সেনাবাহিনী ‘লেবাননের সমগ্র ভূখণ্ডে কার্যকর সার্বভৌম কর্তৃত্ব’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে— তবে তা নির্ভর করবে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (স্পষ্টত হিজবুল্লাহ) যাচাইকৃত নিরস্ত্রীকরণের ওপর।
শুধু তখনই ইসরাইল লেবানন থেকে ‘ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার’ করবে। চুক্তিতে প্রাথমিকভাবে দুইটি ‘পাইলট জোন’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ইসরাইলের সেনা প্রত্যাহারের প্রথম ধাপে লেবানিজ সেনাবাহিনী ‘ধাপে ধাপে পূর্ণ ও কার্যকর নিরাপত্তা দায়িত্ব’ নেবে।
চুক্তির ভাষ্যানুসারে, ‘এসব পাইলট জোনে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সফল নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের অবকাঠামো ভেঙে দেওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর লেবানিজ সেনাবাহিনী সেখানে পূর্ণ ও কার্যকর নিরাপত্তা দায়িত্ব গ্রহণ করবে, আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে এবং লেবানিজ নাগরিকরা লেবানিজ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের একক নিয়ন্ত্রণে নিরাপদে সেসব এলাকায় ফিরে যেতে পারবেন।’
সূত্র : এনএনএ, আনাদোলু
কেকে/এমএ