মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
হিউস্টনের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে এগিয়ে থাকলেও জাপানের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক জিওন সুজুকির দুর্দান্ত নৈপুণ্যে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি সেলেসাওরা।
বরং ২৯তম মিনিটে হাইড্রেশন বিরতির পরপরই এগিয়ে যায় জাপান। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পেয়ে কাইশু সানো দ্রুত আক্রমণে ওঠেন। কাসেমিরোকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত ডান পায়ের শট পোস্টের নিচের বাম কোণ ঘেঁষে জালে জড়ালে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জাপান। সেই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় এশিয়ার প্রতিনিধিরা।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে দেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। লুকাস পাকেতার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিককে। এই পরিবর্তনের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ব্রাজিল।
৫২তম মিনিটে ব্রুনো গুইমারায়েসের হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন সুজুকি। তিন মিনিট পর কাসেমিরোর হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন তাকেহিরো তোমিয়াসু। তবে ৫৬তম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। কাসেমিরো কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান।
সমতা ফেরানোর পর জয়ের লক্ষ্যে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি শট পোস্টে লাগে। এন্দ্রিক ও রায়ানও একাধিক আক্রমণ থেকে সুযোগ তৈরি করেন। অন্যদিকে জাপানও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার ব্রাজিলের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করলেও গোল করতে পারেনি।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। ছয় মিনিটের যোগ করা সময়ের শেষদিকে জাপানের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নেন ব্রুনো গুইমারায়েস। তার নিখুঁত থ্রু পাস ধরে দ্রুত বক্সে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শটে গোলরক্ষক জিওন সুজুকিকে পরাস্ত করেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। ৯৬তম মিনিটের সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।
এই জয়ে রাউন্ড অব ৩২ পেরিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল সেলেসাওরা। অন্যদিকে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ মুহূর্তের হতাশা নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলো জাপানের।
কেকে/ এমএস