বেতনবঞ্চিত মাদ্রাসা শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান আগামী জুলাই মাস থেকেই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বকেয়াসহ নিয়মিত বেতন দেওয়ার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইএইউ) অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাদ্রাসাসহ বেতনবঞ্চিত শিক্ষকদের সমস্যা আগামী জুলাই মাসেই সমাধান হবে। পূর্বের বকেয়াসহ নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘ইসলামি শিক্ষা কোনো দল বা মতের বিষয় নয়। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।’
শিক্ষামন্ত্রী জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা গেছে, তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন ছিল। তবে এসব কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রয়োজনের ভিত্তিতে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদের বেতনের জন্য বাজেটে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখা যায়, এসব শিক্ষকের বেতন পরিশোধে প্রায় ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন, কিন্তু সেই অর্থের সংস্থান ছিল না। এরপরও আগামী জুলাই থেকে তাদের বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্যও প্রায় ২৯ কোটি টাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।’
এবতেদায়ি মাদ্রাসার এমপিওভুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে নীতিমালায় পরিবর্তন এবং যথাযথ পরিদর্শনের অভাবে জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা বর্তমান সরকার সমাধানের চেষ্টা করছে।’
অনুষ্ঠানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
কেকে/ এমএস