চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং হেদায়েতুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসায় সরকারি নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ না করে পাঠদান পরিচালনা ও নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নুরুল হুদা নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
নুরুল হুদা জানান, রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব সিদ্ধান্তে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পাঠদান পরিচালনা করছেন।
এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনাও উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শ্রেণি কার্যক্রমের নির্ধারিত সময়সূচি ও প্রতিটি ক্লাসের সময়সীমা অনুসরণ করা হচ্ছে না। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ক্লাসও নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করে দেওয়া হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর দুইটার দিকে পাইন্দং হেদায়েতুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষগুলো তালাবদ্ধ এবং পুরো ক্যাম্পাস প্রায় জনশূন্য। শিক্ষার্থী তো দূরের কথা, কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীকেও সেখানে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসাটিতে দুপুর ১টার মধ্যেই পাঠদান শেষ করে শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির মুঠোফোনে বলেন, প‘রীক্ষা চলাকালে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। শিগগিরই আগের নিয়মে ফিরে যাব।’
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সেলিম রেজা বলেন, ‘সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এই প্রতিষ্ঠানে সে নিয়ম মানা হচ্ছে না এবং বিষয়টি শিক্ষা অফিসকেও অবহিত করা হয়নি। এটি প্রতিষ্ঠানপ্রধানের স্বেচ্ছাচারিতা।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দুপুর ১টায় ছুটি দিয়ে দেওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ