বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দিলেও আপাতত বন্যার কোনো ঝুঁকি নেই।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত ৩ ও ৫ দিনের ডিটারমিনিস্টিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে, যমুনা, পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বাড়লেও তা বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৬.০৫ মিটারের নিচে ২৫.৬১ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেট (৯.৫৪ মি.) ও সুনামগঞ্জে (৭.০৬ মি.) বিপৎসীমার বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সেখানে আগামী কয়েকদিন পানি হ্রাসের প্রবণতা বজায় থাকবে।
এদিকে যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি কিছুটা বাড়লেও তা বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে। যমুনার ফুলছড়ি পয়েন্টে আজ পানি ১৮.৬১ মিটারে রয়েছে, যার বিপৎসীমা ১৯.৩৫ মিটার। একইভাবে পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে ৬.১০ মিটারে পয়েন্টে পানি প্রবাহিত হচ্ছে, যার বিপৎসীমা ৮. ২০ মিটারে আর ভাগ্যকূল পয়েন্টে পানি ৩.৮৯ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে, যেখানে বিপৎসীমা ৫.৮৫ মিটার।
দক্ষিণাঞ্চলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পানি বিপৎসীমার ৪.১৫ মিটারের নিচে (-০.৯৪ মি.) অবস্থান করছে। এছাড়া বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানিও বিপৎসীমার অনেক নিচে (৪.৫৬ মি.) রয়েছে।
আগামী ৫ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা অববাহিকার কিছু পয়েন্টে পানির উচ্চতা বাড়লেও তা বিপৎসীমা স্পর্শ করার সম্ভাবনা খুবই কম। অন্যদিকে, দেশের অধিকাংশ নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচে থাকায় আপাতত বন্যার কোনো ঝুঁকি নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে নদ-নদীর পানির এই পরিবর্তন বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এতে কিছু অনিশ্চয়তা থাকতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
কেকে/এলএ