মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
শিরোনাম: শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে: তথ্য উপদেষ্টা      তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: ডা. জাহেদ      বুধবার ‘ব্যাংক হলিডে’, বন্ধ থাকবে লেনদেন      বকেয়াসহ জুলাই থেকে বেতন পাবেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা: শিক্ষামন্ত্রী      শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী      জনসংযোগে সরব জামায়াত      সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার কুশল বিনিময়      
দেশজুড়ে
বিশ্বকাপের খেলা দেখে ফেরার পথে সশস্ত্র ডাকাতি, মোটরসাইকেল হারালেন প্রকৌশলী
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ২:৫৫ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় গভীর রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখে বাড়ি ফেরার পথে এক প্রকৌশলী সশস্ত্র ডাকাত দলের কবলে পড়ে মোটরসাইকেল হারিয়েছেন।

সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা আঞ্চলিক সড়কের পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া চৌরাস্তা ফিলিং স্টেশনের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। 

দেশীয় ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম (বাবু) পাকুন্দিয়া উপজেলার পোড়াবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত আবু বকর সিদ্দিকের একমাত্র ছেলে। তিনি পাকুন্দিয়া সদরে অবস্থিত ‘টোয়েন্টি টেক ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রকৌশল ও নির্মাণ-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম জানান, বন্ধুদের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি এলাকায় বড় পর্দায় ব্রাজিল-জাপান বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করে তিনি একাই মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। রাত প্রায় ২টার দিকে কোদালিয়া চৌরাস্তা অতিক্রম করার সময় আরেকটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার গতিরোধ করে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমে তারা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শুরু করে। একজন জানায়, সামনে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা আমাকে ঘটনাস্থলে যেতে বলে। আমি বিষয়টি বিশ্বাস করে মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করি। ঠিক তখনই তাদের একজন হঠাৎ চাপাতি বের করে আমাকে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আমি প্রাণ বাঁচানোর জন্য মোটরসাইকেল ফেলে দৌড়ে পালাই। একজন চাপাতি হাতে আমাকে অনেক দূর পর্যন্ত ধাওয়া করে। পরে তারা আমার ব্যবহৃত পালসার সিঙ্গেল ডিস্ক মোটরসাইকেলটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে আত্মরক্ষার সুযোগও পাইনি। তারা পরিকল্পিতভাবে ফাঁদ পেতে দাঁড়িয়ে ছিল বলে আমার ধারণা। প্রাণে বেঁচে ফিরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। তবে মোটরসাইকেলটি আমার দৈনন্দিন কাজের প্রধান বাহন ছিল।’

ঘটনার পর তিনি পরিচিত এক ব্যক্তিকে ফোন করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। পরে তারা সুখিয়া বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেলটির খোঁজ করেন। কিন্তু কোথাও এর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার ধারণা, ডাকাতরা মহাসড়ক ব্যবহার না করে গ্রামীণ বিকল্প সড়ক দিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়।

ঘটনার পরপরই তিনি পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবহিত করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন এলাকায় টহল দলকে সতর্ক করলেও ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের দাবি, সম্প্রতি গভীর রাতে বিভিন্ন সড়কে ডাকাতি, ছিনতাই ও পথরোধের ঘটনা বাড়লেও কার্যকর টহল না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে গভীর রাত পর্যন্ত খেলা দেখে বাড়ি ফেরা দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাতের সড়কে নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বের হতে ভয় পাচ্ছেন। কোদালিয়া চৌরাস্তা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই রাতের সড়কে নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘রাতেই ভুক্তভোগীর ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টহল টিমকে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বার্তা দেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে একটি মোটরসাইকেল আটক করে ভুক্তভোগীকে দেখানো হলেও সেটি তার মোটরসাইকেল ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরবে। একই সঙ্গে রাতের সড়কে পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close