পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার ত্বাহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার দুই শিক্ষককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অসত্য মন্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে দুর্বৃত্তের গুলি ছোড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) উপজেলার শিবপুর এলাকায় মাদরাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে ইকরাম মোল্লা নাম এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তার ডান পায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে আহত অবস্থায় পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৩ আগস্ট মাদরাসার দুই শিক্ষক মো. শামছুল আলম (মঞ্জু মাস্টার) ও মোছা. আফরোজা আক্তারকে নিয়ে আলাউদ্দিন, টিপু, রাহিমুন ও নূরুন নবীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অসত্য মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে ৮-১০ জনের একটি দল এসে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এর মধ্যে একটি গুলি ইকরাম মোল্লার ডান পায়ে লাগে। গুলি খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, গুরুবাসী গ্রামের ওয়াহেদ আলী বিশ্বাসের ছেলে টিপু বিশ্বাসের নেতৃত্বে দলটি ঘটনাস্থলে এসে প্রথমে মানববন্ধনের ব্যানার টেনে ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ইকরাম মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করছিলাম। এ সময় ৮-১০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী এসে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং মানববন্ধন করতে নিষেধ করে। এ সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে টিপু বিশ্বাস তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে ফাঁকা ফায়ার করে এবং পরে ইকরামকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
খবর পেয়ে আটঘরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলির খোসা উদ্ধার করে। আহত ইকরাম মোল্লাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুলির শব্দে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মাদরাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘একটি কুচক্রী মহল আমার পেছনে লেগেছে। আমাকে এখান থেকে বিতাড়িত করতে চায়। এলাকার কিছু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আমি কোনো অনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলাম না। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।’
হামলা ও গুলিবর্ষণের বিষয়ে অভিযুক্ত টিপু বিশ্বাস ও তার সহযোগীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গুলির খোসা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনায় কেউ এখনও অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
কেকে/এআই