যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার বাগদহা গ্রামের ফারিয়া ইয়াসমিন তিশা (১৩) নামে কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা ভিন্ন মোড় নিতে শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রচার করা হলেও এখন জানা যাচ্ছে ভিন্ন খবর।
বখাটে যুবক আব্দুর রহমান নিশান অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এই কিশোরীকে প্রথমে ধর্ষণ ও এর ভিডিও করে রেখে ব্ল্যাকমেইল করার কারণে সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় বলে তার বাবা থানায় লিখিতভাবে জানিয়েছেন। পরে ওই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে হুমকি দিয়ে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরিবারের কাছে এ ভিডিও দেখানো হবে বলে বারবার হুমকি দেওয়ার কারণেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল তিশা। লজ্জা ও বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা পেতে এক পর্যায়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয় ওই কিশোরী।
শনিবার (৪ জুলাই) নিহতের বাবা আলমগীর হোসেন গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে আব্দুর রহমান নিশান ও নিছার আলীর মেয়ে সুমি খাতুনকে অভিযুক্ত করে কেশবপুর থানায় ধর্ষণ ও আত্মহননে প্ররোচনার দায়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলা ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিশা কেশবপুরের পাইলট গার্লস স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। আসামি নিশান স্কুলে যাবার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিত। প্রস্তাবে রাজি না হওয়াই প্রতিবেশি নিছার আলীর মেয়ে সুমি খাতুনের সহায়তায় তিশার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শারিরীক সম্পর্ক করে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীভিডিও দেখাইয়া ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করলে লোকলজ্জার ভয়ে তিশা বিভিন্ন সময়ে টাকা দিতে থাকে। এভাবে পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনকে দিন অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যেতে থাকে।
গেল ২৭ জুন মেয়ের বাবা আলমগীর হোসেন তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে যান। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশি সুমির সহায়তায় বখাটে আব্দুর রহমান নিশান বাড়িতে প্রবেশ করে বিয়ের প্রলোভনে তিশাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এরপর মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে তিশার গলায় থাকা এক লক্ষ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ১২ আনা ওজনের সোনার চেইন, ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ছয় আনা কানের দুল, এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা, কিশোরীর মায়ের ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার দেড় ভরি ওজনের রুলি, ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি সোনার নেকলেস লুট করে নেয়।
আরও টাকার জন্য তিশার ওপর চাপ সৃষ্টি করে টাকা ও সোনার গহনা নিয়ে চলে যায়। তিশা মানসিক চাপ ও ধর্ষণের শিকার হওয়ায় মা-বাবা ও পরিবার-লোকলজ্জার ভয়ে গত ৩০ জুন বিকালে নিজের ঘরের ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
এদিকে, এ ঘটনায় প্রথমে কেশবপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়। পরে নিহতের অভিভাবকরা বিভিন্ন মাধ্যমে এসব ঘটনা জানতে পেরে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রহমান নিশানের বাড়িতে গেলে তার মা জানান, নিশান বর্তমানে বাড়িতে নেই। ওই ঘটনার পর থেকে কোথায় আছে, সেটা জানেন না।
অপর আসামী সুমি খাতুন বলেন, ‘আমি এ ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানি না।’
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, ‘কিশোরী ফারিয়া ইয়াসমিন তিশার মৃত্যুর ঘটনায় কেশবপুর থানায় অপমূত্যু মামলা হয়েছে। সন্দেহজনক হওয়ায় লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পরে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।’
কেকে/এমএ