কৃষি উৎপাদনে বিদেশি উপকরণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তির সক্ষমতাকে সামনে আনতে নতুন প্রচারণা শুরু করেছে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার (এনএসি)। ধান চাষে আগাছা দমন, শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর বার্তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করেছে ধারাবাহিক ওভিসি ‘কৃষকের ঘুম ভাঙছে’। এর প্রথম পর্বের নির্মাণকাজ সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে ওভিসিটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কৃষিবিজ্ঞানী কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের কৃষি খাতে এখন আন্তর্জাতিক মানের সার, বীজ ও কৃষি সুরক্ষা পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, যা গুণগত মানে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা রাখে। কৃষকদের মধ্যে এসব দেশীয় প্রযুক্তি ও পণ্যের প্রতি আস্থা তৈরি করাই এ প্রচারণার অন্যতম উদ্দেশ্য।
ওভিসির গল্পে ধান চাষে আগাছাজনিত ক্ষতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখানো হয়েছে, আগাছা ধানের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও খাদ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। একইসঙ্গে আগাছা পরিষ্কারে অতিরিক্ত শ্রম ও ব্যয় কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ সমস্যার সমাধান হিসেবে এনএসি তাদের নতুন ধানক্ষেতের আগাছানাশক ‘চ্যাঞ্জার’ বাজারে এনেছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পণ্যটি ধানক্ষেতের সরু পাতা, চওড়া পাতা ও সেজ (মুথা) জাতীয় আগাছা দমনে কার্যকর। প্রতি বিঘা জমিতে মাত্র ১০০ গ্রাম নির্ধারিত সময়ে প্রয়োগ করলে আগাছার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। আর এতে শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি সুস্থ ফসল ও অধিক ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব।
এনএসি জানায়, আধুনিক ও সাশ্রয়ী দেশীয় কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো, বিদেশি উপকরণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস ও দেশের কৃষিকে আরও টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলাই তাদের এ উদ্যোগ।
কেকে/ এমএস