এলজিইডির ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রকল্পের (ক্রিম্প) উদ্যোগে ‘পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাবিষয়ক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৫ ও ৬ জুলাই এলজিইডি সদর দপ্তরের আরডিইডি ভবনের ১২ তলার সেমিনার কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লোকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেন্টারের (ক্রিলিক) পরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মানব সম্পদ, পরিবেশ জেন্ডার শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ছয়ফুদ্দীন ও কর্মশালার প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ক্রিম্প প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল খালেক।
কর্মশালায় মূল প্রশিক্ষক ছিলেন কেএফডব্লিউর পরামর্শক সেবাস্তিয়েন ফ্রাওনেট। কর্মশালায় কেএফডব্লিউর আরবান পোর্টফোলিও কো-অর্ডিনেটর শেখ তৌহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় সেবাস্তিয়েন ফ্রাওনেট পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব, কর্মক্ষেত্রে এর মৌলিক নীতি এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি কর্মক্ষেত্রের সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্তকরণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ধাপসমূহ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি, সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য কার্যসম্পাদন সূচক নির্ধারণের বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন।
এছাড়া ব্যবহারিক অনুশীলন, অংশগ্রহণকারীদের উপস্থাপনা এবং মতবিনিময় পর্বের মাধ্যমে আলোচিত বিষয়গুলোর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় ভোলা, বরগুনা ও সাতক্ষীরা জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলী, সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী, ডিএসএম পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞবৃন্দ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ক্রিম্প ও ক্রিলিকের নির্বাহী প্রকৌশলী, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীরাও প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
সোমবার (৬ জুলাই) কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, “এলজিইডি তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমাদের প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা প্রতিদিন নানা ধরনের চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন। নির্মাণাধীন প্রকল্প এলাকায় ভৌত ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি। তাই প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়; এটি আমাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “এই প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আমি আশা করি, আপনারা নিজ নিজ প্রকল্প ও কর্মক্ষেত্রের জন্য যে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাবিষয়ক খসড়া কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছেন, তা দ্রুত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন।”
কর্মশালায় ডিএসএম পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি টিম লিডার মো. মোকসেদ আলম, প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ বান্দা হাফিজ এবং গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সৈয়দ মাহবুব আহসান উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এমএ