শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬,
২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: বেতন বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের, হতাশ বেসরকারি চাকরিজীবীরা      তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব রাষ্ট্রপতির      বন্যায় ভাসছে ২০ জেলা      আ. লীগকে সক্রিয় করতে হাসিনার নতুন চাল      হরমুজে হামলা বন্ধে ইরানের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চায় যুক্তরাষ্ট্র      আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস      ঢাকাসহ ১৬ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস      
জাতীয়
বেতন বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের, হতাশ বেসরকারি চাকরিজীবীরা
খোলা কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম আপডেট: ১১.০৭.২০২৬ ১১:৫১ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ভারে ন্যুব্জ সাধারণ মানুষ। এর মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির আভাস দিয়েছে সরকার। ফলে বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। 

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের লোকসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি হলেও সরকারি সুবিধা সংখ্যা মাত্র ১৪ লাখ। ফলে বড় অংশের মানুষের আয় বাড়ছে না। হিসাব পালটাচ্ছে শুধু সরকারি কর্মকর্তার। এর ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব তথা মূল্যস্ফীতির বোঝা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাঁধে এসে পড়ছে।

এদিকে রোজার ঈদে একদফা পণ্যের দাম বেড়েছিল। পরে কুরবানির ঈদ ঘিরে আরও কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাজারে এসব পণ্যের কোনো সংকট না থাকলেও এগুলোর আর দাম কমেনি। এতে নিম্নবিত্ত ছাড়াও মধ্যবিত্তদেরও নাভিশ্বাস বেড়েছে। আর খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের অনেকে এখন সাধ ও সাধ্যের মধ্যে মাছ-মাংস পর্যন্ত কিনতে পারছেন না। গরিবের জন্য বাজার করা এখন সবচেয়ে কষ্ট আর হতাশার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা ভেবেছিলেন কুরবানি ঈদের পর পণ্যের দাম কিছুটা কমবে, তাদের সেই আশাও পূরণ হয়নি। এ আশায় শুক্রবার যারা বাজারে গিয়েছেন, তাদের চরমভাবে হতাশ করেছেন বিক্রেতারা।

জুনে দেশে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জন্য বড় কোনো স্বস্তি আসেনি। কারণ ধারাবাহিকভাবে তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ এখনো কাটেনি। বরং সীমিত আয়ের ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় সংকোচনের প্রবণতা আরও বেড়েছে। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত জুন-২০২৬ মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুনে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের মে-তে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি দশমিক ২৬ শতাংশ কমলেও তা এখনো ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। 

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের ওপরও চাপ বাড়তে পারে। কারণ দেশের সাড়ে ১৪ লাখের বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাড়লে শুধু মূল্যস্ফীতিই নয়, বৈষম্য, দারিদ্র্য, তারল্য সংকটসহ আর্থসামাজিক নানা ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা ও পূর্বপ্রস্তুতি প্রয়োজন, সরকারের সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।’

সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, “মূল্যস্ফীতির চাপে সবাই পিষ্ট। সরকারি কর্মচারীদের প্রণোদনা দেওয়ায় তাদের একটু হলেও স্বস্তি হবে। কিন্তু বাকি জনগণের কী হবে? কারণ বাজারে সবাই যায়। তাই সরকারের উচিত হবে, দেশের সব মানুষের জন্য মূল্যস্ফীতি কমানোর ব্যবস্থা করা। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করা। টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বেশি করে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে।’’

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কিন্তু প্রতিযোগিতা নেই। কিছু অসাধু বিক্রেতা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাকে নাজেহাল করে তুলছেন। দেখার জন্য যারা আছেন, তারাও রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ।’’

এমন পরিস্থিতিতে সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। ফলে ১৪ লাখ কর্মকর্তা সুবিধা পাবে। তারা নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম কিছুটা হলেও সামাল দিতে পারবেন। কিন্তু অন্যদের জন্য কোনো সুখবর নেই। বাজারে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়েছে। ফলে এই অবস্থা থেকে তাদের বের করে আনতে হবে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।

কেকে/এলএ



আরও সংবাদ   বিষয়:  বেতন চাকরিজীবী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close