শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: জুলাই সনদের আলোকেই বাস্তবায়ন হবে আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা      রাজনীতিবিদদের বক্তব্য সংযত রাখতে আইন করার পরামর্শ বিশ্লেষকদের      নতুন দায়িত্বে ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি      ব্যাংক ঋণে ঝুঁকছে সরকার      সম্ভাবনায় সংকটের ছায়া      চড়া দামে দিশেহারা ক্রেতা      ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ংকর পরিকল্পনা      
রাজনীতি
রাজনীতিবিদদের বক্তব্য সংযত রাখতে আইন করার পরামর্শ বিশ্লেষকদের
খোলা কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি ও এনসিপি। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ফেরাতে পরিকল্পিতভাবে অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হচ্ছে।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, ‘বক্তব্যের জবাব কখনও হামলা হতে পারে না।’ এদিকে, উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে রাজনীতিবিদদের শৃঙ্খলা রাখতে আইন প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

বক্তব্যের কারণেই প্রায়ই খবরের শিরোনাম হন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার সেই বক্তব্যের রেশ ধরেই গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পরে পুলিশি বাধায় সমাবেশ করতে পারেনি বিরোধীদলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

এমনকি বৃহস্পতিবার আবারও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর। এই দুই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করেন এনসিপি নেতারা। কয়েক বছর আগেও বিএনপি নেতারা এমন হামলার শিকার হতেন। আওয়ামী লীগের হামলায় গুরুতর আহত হন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা রটনা ও নোংরা অপপ্রচার যারা রাজনীতির নামে করছেন, তা রাষ্ট্র, সমাজ ও সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা স্থানীয় প্রশাসন খতিয়ে দেখবে এবং অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তবে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সংযম ও পরিমিতিবোধ থাকা জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন, তারা সফল হবেন না। কোনোভাবে ফ্যাসিবাদীদের পুনরাগমন ঘটলে কেউই রক্ষা পাবে না।’

অন্যদিকে, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘এখানে রাজনৈতিকভাবে আপত্তিকর কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। মতভেদ থাকতে পারে, তবে তিনি তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। এর জবাবে চাইলে পাল্টা সমাবেশ করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা যেতে পারে। এটাই রাজনৈতিক শিষ্টাচার। তবে বিরোধীদলের ওপর চড়াও হওয়া পুরোনো আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। বিএনপির মধ্যে এমন প্রবণতা দেখা গেলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগের বিষয়।’

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির ফিরে আসার অভিযোগ সঠিক নয়। যদি এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তার দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে। কারণ, তাদের কর্মসূচি বিচার ও সংস্কারকেন্দ্রিক।’

২০২৪-পরবর্তী এমন সংঘাতপূর্ণ ও উত্তপ্ত রাজনীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। তারা বলছেন, রাজনীতিবিদদের জন্য আচরণবিধি (কোড অব কন্ডাক্ট) থাকা বাঞ্ছনীয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ বলেন, ‘গালিগালাজের জবাব সংঘাত বা মারামারির মাধ্যমে দেওয়া সমাধান হতে পারে না। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসদে আলোচনা করে রাজনীতিবিদদের জন্য একটি আচরণবিধি (কোড অব কন্ডাক্ট) প্রণয়ন করা প্রয়োজন।’

অন্যদিকে, জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘হবিগঞ্জের ঘটনায় যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। অন্যের সমালোচনা করার সময় কোনো পক্ষই যেন শিষ্টাচারের সীমা অতিক্রম না করে।’ একই সঙ্গে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।

তবে এই ঘটনার জন্য পরস্পরকে দায়ী করলেও অভিযুক্ত নেতার বিষয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করার কথা জানান এনসিপির সারোয়ার তুষার। আর বিএনপির রিজভী আহমেদ বলছেন, ‘পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করতে দলীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিনিয়র নেতা রিজভী বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের সংঘাতের পথে যাবেন না। দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হোক, সেটাও দল চায় না।’ একই সঙ্গে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকেও সংযম ও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।

আর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক তুষার বলেন, ‘বক্তব্যের ক্ষেত্রে দল সবসময় শালীনতা প্রত্যাশা করে। কারও বক্তব্যে শালীনতার ব্যত্যয় ঘটলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানানো হয় এবং বিষয়টি দলীয়ভাবেও আলোচনা করা হয়।’

কেকে/এলএ



আরও সংবাদ   বিষয়:  রাজনীতিবিদ   বক্তব্য  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close