ঢাকা উত্তর সিটির মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙার ঘটনাকে সমর্থন করে কিংবা ‘সংস্কারের উদ্দেশ্যে’ এটি ভাঙা হয়েছে—এমন কোনো বক্তব্য দেননি বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে প্রচারিত এমন বক্তব্যকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও গুজব বলে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান সানজিদা ইসলাম তুলি।
বিবৃতিতে তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে ‘দখল নয়, সংস্কারের উদ্দেশ্যেই রাতে ভাঙা হয়েছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র’—এমন একটি বক্তব্য তার নামে প্রচার করা হচ্ছে। তবে তিনি কখনো এমন বক্তব্য দেননি।
বিবৃতেতে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, মিরপুর-১’-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর স্থানীয় দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার প্রধান উদ্বেগ ছিল, ধ্বংসস্তূপ দ্রুত অপসারণ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সংস্কার ও পুনর্ব্যবস্থাপনা শুরু করা এবং কোনোভাবেই যেন মা ও শিশুদের টিকাদানসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ না হয়।’
‘এ জন্য ফ্যান, পর্দা, চেয়ার, টেবিল ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সহযোগিতা করেছি।’
রাড্ডা টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
একই সাথে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন তিনি।
সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘আমার দেওয়া বক্তব্য, বক্তব্যের ভিডিও ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পেজ থেকে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে আমার নামে মনগড়া বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।
এ ধরনের অপতথ্য একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্যকে বিকৃত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি জনস্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনাস্থা তৈরি করতে পারে।
সানজিদা ইসলাম তুলি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘দায়িত্বশীল গণমাধ্যমগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা ঘটনাটি নিয়ে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করেছেন এবং করছেন। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করছি, কোনো ফটোকার্ড, পোস্ট বা বক্তব্য শেয়ার করার আগে এর উৎস ও সত্যতা যাচাই করুন।’
সানজিদা ইসলাম তুলি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও কয়েকজন তার ছবি ব্যবহার করে ফটোকার্ড তৈরি করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
এলাকার সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা সমস্যা দেখা দিলে গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে দায়িত্বশীলভাবে পরামর্শ দিতে হবে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।’
তাই প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি বা অপতথ্য না ছড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার কাজে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘অন্যায়ভাবে ভাঙচুরের ঘটনার তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে, দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।’
জনস্বার্থ, মানবিকতা ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান সানজিদা ইসলাম তুলি।
কেকে/এমএ