কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেছেন, ‘জামায়াতের কথাবার্তা শুনে মনে হয়, আমাদের গণনায়ই ধরে না। তারা একদিকে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে আবার সরকার পতনের কথাও বলছে।’
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে কটিয়াদীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এ সব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জালাল উদ্দিন বলেন, ‘জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন—এ তেল সংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়। অথচ পরবর্তীতে তারা আবার হাজার হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করেছে। এতে তেলের দাম কমবে না বাড়বে, আপনারাই বলুন? তারা মূলত ষড়যন্ত্রকারী, তাদের কেউ বিশ্বাস করবেন না।’
জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘ইউনূস সরকারের আমলে সরকারি দলের মতো সব ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আর আমরা ছিলাম বিরোধী দল।’
তিনি বলেন, ‘কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া আসনটিও তারা নিজেদের নিশ্চিত জয়ের তালিকায় রেখেছিল। কিন্তু তথাকথিত “জান্নাতের টিকিট” বিক্রি করেও তারা পাস করতে পারেনি। স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার পর তাদের আর কেউ পাত্তা দিচ্ছে না, অফিস-আদালতেও জায়গা দিচ্ছে না। তাই তারা দুই মাস যেতে না যেতেই এ সরকারের পেছনে লেগেছে।’
জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ভেসে আসিনি। তারা নানা ছলচাতুরী করেও সব মিলিয়ে ৭০টি আসনও পায়নি। পক্ষান্তরে আমরা মানুষকে উন্নয়ন, সুবিধা, বিভিন্ন ভাতা কার্ড ও ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় আড়াইশত আসন পেয়েছি।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খাঁন দিলীপ। সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন ও শফিকুর রহমান ফুলু, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন ও সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান সজল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ, সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম সেতু এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তাসরিফুল হাসিব প্রমুখ।
কেকে/এআই