মাদকের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন বা লেনদেনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডসহ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে পাস হয়েছে।
গত রোববার (১৩ জুলাই) এমন আইন পাস হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দেশবাসী। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সচেতন মহলও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে ভয়াবহ মাদকের বিস্তারে অতিষ্ঠ জনসাধারণ দ্রুত আইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা তাহছিনা আক্তার নিশাত বলেন, ‘সকালে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালেও বিকালেই মিলছে জামিন। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতা থাকলেও সমাজ মাদকমুক্ত হচ্ছে না। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অব্যাহত সাজা দিয়েও রূপগঞ্জের ভয়াবহ মাদক সিন্ডিকেট রোধ করা যাচ্ছে না। ফলে মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধীরা অধরাই থেকে যাচ্ছে।’
অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া, ইছাখালী, পাঁচাইখা, গোলাকান্দাইল, তারাব, দাউদপুর, ভোলাবো, মুড়াপাড়ার মাছিমপুর, বাড়িয়াছনি, টেকনোয়াদ্দা, কুমারটেক, গুতিয়াবো, পিতলগঞ্জ, মধুখালী, ব্রাহ্মণখালী ও পূর্বাচলের লেকপাড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে। অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার এবং নতুন আইনে বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
গুতিয়াবো এলাকার বাসিন্দা বাছির উদ্দিন বলেন, ‘রূপগঞ্জে মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা লক্ষণীয়। কিন্তু তাতেও মাদক বন্ধ হচ্ছে না। সম্প্রতি সরকার মাদকের সঙ্গে জড়িতদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান করেছে। এটি এখন বাস্তবায়ন করতে হবে। নয়তো ‘কিতাবে আছে, গোয়ালে নাই’ প্রবাদে পরিণত হবে।’
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচ এম সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা পুলিশের তৎপরতায় মাদকসহ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠাই। কিন্তু আইনের ধারা-উপধারার কারণেই মাদকসেবী ও কারবারিরা আটকের পর নানা কারণে জামিন পেয়ে যায়। ফলে তারা আবারও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, যা দুঃখজনক। তবে সরকার যে কঠোর আইন পাস করেছে, তা গেজেট আকারে প্রকাশ ও বাস্তবায়ন হলে বহু মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বৈধ পেশায় ফিরে আসবে। কারণ, কেউ মৃত্যুঝুঁকি নিতে চাইবে না।’
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড দেওয়ার ঘটনায় রূপগঞ্জবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। আমি চেষ্টা করছি, তরুণ সমাজ যেন এ ভয়াবহ মাদক থেকে দূরে থাকে। বহু অভিভাবক আমার কাছে তাদের মাদকাসক্ত সন্তানদের জেলে দিতে অনুরোধ করেন। বহু মা-বাবা এসব কুলাঙ্গারের অত্যাচারের শিকার। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতেও অনেক সময় সাজা দেওয়া কঠিন। কারণ, অপরাধীকে হাতে-নাতে ধরতে হয়। তবুও বহু মাদকসেবী ও কারবারিকে দণ্ড দিয়েছি, যা অব্যাহত আছে।’
সচেতন মহলের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপস বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাদকদ্রব্যের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ, প্রচার বা আর্থিক লেনদেনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের যে আইন হয়েছে, তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
কেকে/এলএ