শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানবসম্পদ। দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের শিক্ষায় এ মানবসম্পদকে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা যেন উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশে আসে, সে লক্ষ্য নিয়েই সরকার শিক্ষা খাতের উন্নয়নে কাজ করছে।’
শনিবার (১৮ জুলাই) নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সভা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক শক্তি। এই জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।’
স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ বা একীভূত হলেও বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়।’
শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে এহসানুল হক মিলন বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুণগত মানোন্নয়নে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকের বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়কে উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। স্থানীয় প্রয়োজন বিবেচনায় কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ব্যবসায় শিক্ষা, সামাজিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ প্রয়োজনভিত্তিক বিভিন্ন অনুষদ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতির আধুনিকায়ন এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’
‘শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে জাতীয় আয়ের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।’
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাসনাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিভাগের প্রথম ব্যাচের ৮০ জন শিক্ষার্থীর হাতে নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী আমগাছের চারা ও ব্যাগ তুলে দিয়ে তাদের বরণ করেন।
এর আগে শহরের বরুলকান্দি মোড়ে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা এবং ফলক উন্মোচন করা হয়। পরে নতুন শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব ও ব্র্যাক ব্যাংক স্টাডি সেন্টারের উদ্বোধন শেষে কেক কেটে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী।
কেকে/এমএ