বিশ্বকাপ শিরোপা হাতছাড়া হলেও দেশে ফিরেই বীরের সম্মান পেল আর্জেন্টিনা দল। বুয়েনস এইরেসে হাজারো সমর্থকের ভালোবাসা, লাল গালিচা সংবর্ধনা ও আবেগঘন অভ্যর্থনায় রানার্স-আপ আলবিসেলেস্তেরা বুঝে নিল—ফল নয়, লড়াইটাই তাদের দেশের মানুষের হৃদয় জয় করেছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়। এরপর দলের একটি অংশ দেশে ফিরলেও সব ফুটবলার একই বিমানে আসেননি। মোট ১৬ জন খেলোয়াড় আর্জেন্টিনায় ফেরেন, আর বাকি ১০ জন নিজ নিজ ক্লাব বা বাসস্থানের উদ্দেশে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে চলে যান।
দেশে ফিরে খেলোয়াড়দের রানওয়েতেই গ্রেনাডিয়ার রেজিমেন্ট বিখ্যাত ‘মুকহাকহোস’ গানের সুরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানায়। এরপর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খোলা বাসে করে তারা লিওনেল আন্দ্রেস মেসি ট্রেনিং সেন্টারে যান। পুরো পথজুড়ে হাজারো সমর্থক পতাকা, গান ও স্লোগানে প্রিয় দলকে অভিনন্দন জানান।
যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক বিজয় উদযাপনের আয়োজন ছিল না, তবুও অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়ে বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ উপলক্ষে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মাঠে প্রতিটি খেলোয়াড় এবং দলের প্রতিটি সদস্য সমর্থকদের সেই অবিচল সমর্থন অনুভব করেছে। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও, এই যাত্রা আমাদের ও জনগণের মধ্যকার এমন এক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে, যা যেকোনো ফলাফলের ঊর্ধ্বে।’
রানার্স-আপ হওয়ার হতাশা থাকলেও, আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের প্রতি সমর্থকদের অকৃত্রিম ভালোবাসা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে — ফলাফল যাই হোক, জাতীয় দলের প্রতি দেশের মানুষের আবেগ কখনোই কমে না।
কেকে/এলএ