লিওনেল মেসির প্রতি লামিনে ইয়ামালের মুগ্ধতা নতুন নয়। এবারও আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে ‘ইতিহাসের সেরা’ ফুটবলার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বার্সেলোনা ও স্পেনের এ তরুণ তারকা। শুধু তাই নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়ানো খেলোয়াড় হিসেবেও মেসিকেই এগিয়ে রেখেছেন তিনি। খবর টিওয়াইসি স্পোর্টসের।
এক সাক্ষাৎকারে মেসির প্রশংসায় ইয়ামাল বলেন, ‘সবাই জানে, সে (মেসি) ইতিহাসের সেরা। তবে তার কাছ থেকে এমন একটি কিংবদন্তিতুল্য বিশ্বকাপ কেউই প্রত্যাশা করেনি। আর্জেন্টিনা দলে ভালো খেলোয়াড় আছে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে লিওই সবসময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।’
মেসির বয়সের প্রসঙ্গও আলাদা করে টেনেছেন ইয়ামাল। তার মতে, বয়সের এ পর্যায়েও মেসির এমন পারফরম্যান্স ছিল বিস্ময়কর। ইয়ামাল বলেন, ‘আমার কাছে সে-ই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়। সে যা এবং তাকে ঘিরে যে প্রভাব তৈরি হয়েছে—সবকিছুর জন্যই। মেসির বয়সে একজন খেলোয়াড় এমন পর্যায়ে পারফর্ম করতে পারে, যদিও সে মেসি; এটা কেউই প্রত্যাশা করেনি।’
বিশ্বকাপে মেসিও যেনো নিজের পুরোনো জাদু ফিরিয়ে এনেছিলেন। আট গোল করে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ঐতিহাসিক ২-১ জয়ে দুটি অ্যাসিস্টও করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে আবারও ব্যালন ডি’অরের মনোনয়ন পান তিনি।
তবে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মাঝেও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি ইয়ামাল। স্পেনের সাফল্যে অবদান রাখলেও নিজের সামর্থ্যের পুরোটা মাঠে তুলে ধরতে পারেননি বলে মনে করেন তিনি। ইয়ামালের ভাষায়, ‘বিশ্বকাপ জেতার পরও আমি খুশি ছিলাম না। চোটের বিষয়টি সত্যি, কিন্তু সেটিই মূল কারণ নয়। বিশ্বকাপটি যদি অন্য সময়ে আবারও অনুষ্ঠিত হতো, চোট না থাকলেও আমি একই জায়গায় থাকতাম।’
নিজের পারফরম্যান্সে উন্নতির জায়গা রয়েছে—এটিও অকপটে স্বীকার করেছেন ইয়ামাল। মাঠে তার উপস্থিতি প্রতিপক্ষের রক্ষণে যে বাড়তি চাপ তৈরি করে, সেটিও তুলে ধরেছেনঅ তিনি বলেন, ‘আমি এমন অনেক কিছু করেছি, যা মানুষ দেখেনি। একজন খেলোয়াড় তিনজন ডিফেন্ডারকে টেনে নিতে পারলে কোচের জন্য সেটি দারুণ বিষয়। কিন্তু নিজের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে আমি জানি, আরও বেশি কিছু করতে পারতাম।’
কেকে/এআই