স্বাদ, গুণগত মান ও মিষ্টি সুগন্ধের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় আলাদা পরিচিতি রয়েছে মাগুরার কাঁঠালের। আর সেই কাঁঠালকে ঘিরেই জেলার শালিখা উপজেলার সীমাখালি বাজারে গড়ে উঠেছে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কাঁঠালের হাট। মৌসুমজুড়ে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে চলে হাজার হাজার কাঁঠালের বেচাকেনা। এখান থেকে দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে মাগুরার সুস্বাদু কাঁঠাল।
এ বছর অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাগান থেকেই ব্যবসায়ীরা কাঁঠাল কিনে নেওয়ায় কৃষকরা পাচ্ছেন ন্যায্যমূল্য। ফলে একসময় বাড়ির আঙিনার ফল হিসেবে পরিচিত কাঁঠাল এখন মাগুরার কৃষকদের অন্যতম লাভজনক বাণিজ্যিক ফসলে পরিণত হয়েছে।জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন চোখে পড়ে গাছে গাছে ঝুলে থাকা পাকা কাঁঠাল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে তার মিষ্টি সুগন্ধ।
শালিখা উপজেলার সীমাখালি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শুধু মাগুরা নয়, জেলার চারটি উপজেলা এবং আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও কৃষকরা ট্রাক, পিকআপ ও করে কাঁঠাল নিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম,নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা সেগুলো কিনে নিজ নিজ এলাকায় পাঠাচ্ছেন। বাজারটিতে সকাল থেকে শুরু হওয়া বেচাকেনা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
কাঁঠাল ব্যবসায়ী সিদ্দিক বিশ্বাস বলেন, আমরা সীমাখালি বাজার থেকে কাঁঠাল কিনে দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি জেলায় পাঠাই। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার কাঁঠালের বেচাকেনা হয়। ব্যবসায় ভালো লাভ হওয়ায় প্রতি বছরই এই বাজারে আসি।
কাঁঠাল চাষি মো. কাসেম বলেন, মাগুরার কাঁঠালের স্বাদ ও মান দেশের অন্য এলাকার তুলনায় অনেক ভালো। এবার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। বাজারে দামও সন্তোষজনক। তাই কাঁঠাল চাষ করে ভালো লাভ হচ্ছে। এটি এখন একটি লাভজনক বাণিজ্যিক ফসল।
বাগান মালিক বেলায়েত শেখ বলেন, অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় কাঁঠাল চাষে খরচ কম। কিন্তু ফলন ও দাম তুলনামূলকভাবে ভালো হওয়ায় লাভও বেশি হয়। তাছাড়া মাঝে মধ্যে এ গাছের পাতাও বিক্রি করি।এ গাছের পাতা ছাগলের প্রিয় খাবার।
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৭৫২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৯৪ মেট্রিক টন। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ কোটি টাকা। উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে এ অর্থ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এ মৌসুমে কাঁঠালের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। শুধু মাগুরা সদর উপজেলাতেই ১৭২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে কাঁঠাল সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো গেলে এটি দেশের অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কাঁঠালের গুণগত মানও বজায় থাকে।
কেকে/ এমএস